বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

দু’জনের সঙ্গেই শারীরিক সম্পর্কে ছিলেন মিন্নি

বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান সাক্ষী ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন বৃহস্পতিবার ফেরত নিয়েছেন তার আইনজীবীরা। এর আগে, বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন শুনানি হয়।

আদালতে মিন্নির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির শুনানি করেন।

এ সময় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ও রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফও উপস্থিত ছিলেন। শুনানিকালে আদালত কক্ষের বাঁ পাশে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর দোয়া-দুরুদ পড়তে থাকেন। অপরদিকে রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ আদালত কক্ষের ডান পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

বিকেল ৩ টায় আদালত শুরু হলে প্রথমে জামিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না। জামিনের বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির।

তিনি (আইনজীবী) বলেছেন, মিন্নি ছিলেন রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। স্বামী রিফাত শরীফের পাশাপশি ‘প্রেমিক’ নয়ন বন্ডের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক করতেন মিন্নি। কলেজে যাওয়ার নাম করে নয়নের বাসায় যেতেন মিন্নি।

অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির শুনানিতে আরো বলেন, ভিডিও আছে, অনেক কিছুই আছে। আমি আপনাকে জানাচ্ছি। মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শুধু তাই নয়, রিফাতের আগে মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের বিয়ে হয়। সেই বিয়ে গোপন করেই মিন্নি রিফাতের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নয়ন বন্ড যখন জেলে থাকে তখন মিন্নি তথ্য গোপন করে রিফাত শরীফকে বিয়ে করেন। সেই কাবিননামা আমাদের কাছে রয়েছে।

শুধুই তাই নয়, নয়ন বন্ড জেল থেকে বের হয়ে আসার পর এক সঙ্গে দুটি সম্পর্ক বজায় রাখেন মিন্নি। স্বামীর পাশাপশি নয়ন বন্ডের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক করতেন মিন্নি। এ বিষয়গুলো সে নিজেই স্বীকার করেছেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে। রিমান্ড আবেদনে এসব বিষয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও জানান, দুজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখায় একসময় নয়ন বন্ড ও রিফাতের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হয়। পরে মিন্নি ও নয়ন বন্ড মিলে রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। হত্যার উদ্দেশ্যে রিফাতকে কলেজে নিয়ে যান মিন্নি। এরপর তার সামনে রিফাতকে ধরে নিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে নয়ন বন্ড কোপাতে থাকলে মিন্নি বাঁচানোর অভিনয় করেন।

তিনি বলেন, রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার আগে এবং পরে নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির কথোপকথনের রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে। সেই রেকর্ডে বলা আছে, তারা রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। মিন্নি ও নয়ন বন্ডের ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে কথোপকথনের রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত