সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

দুপুর গড়িয়ে বিকেল

জেসমিন সুরভী

বেলা বারটার পর দুপুর একটা বাজলে দুপুর হয়েছে এমন একটা অনূভুতি হয়। ধীরে ধীরে রোদ হারিয়ে বিকেল হয়ে যায়। প্রকৃতির প্রতিটি রূপ সবাই অনুভব করতে পারে না। খুব কম মানুষই পারে দুপুরকে অনুভব করতে।

দুপুর গড়িয়ে বিকেলে পড়ার সময় নিঃস্তব্ধ হয়ে পড়ে চারপাশ। রাস্তার ক্লান্ত কুকুর হাঁপিয়ে পড়ে। কাকগুলোও যেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এ শরৎে মৃদু বাতাসে সাদা কাশফুল দোল খায়।লম্বা সুপারি গাছ বাতাসে এদিক সেদিক নড়ে।

এই দুপুরে বাড়ির কাছে অনেক সময় বেলুন বিক্রেতা আসে। ছোট বাচ্চাগুলোকে তাদের মা ঘুমানোর জন্য ডাকে। আর তারা দৌড়ে উঠোনে আসে। বেলুন কেনার জন্য মায়ের কাছে বায়না ধরে। তারপর ছোট ছেলেমেয়েরা বেলুনে সুতো বেঁধে উড়ায়। এই সুন্দর ঘটনাগুলো দেখে মনে হয়,” নব্বই এর দশকের ছোঁয়া এখনো দুই হাজার উনিশ সালে মাঝে মাঝে জীবিত হয়।

শরৎ এর আকাশে সাদা মেঘ কখনো আবার ধূসর হয়ে গুড়ুম গুড়ুম আওয়াজ করে। এই শরৎে হালকা বৃষ্টিও হয়।

দূরের আকাশে হঠাৎ কয়েকটা পাখি দেখা যায়। আবার চারদিকে কয়েকটা পাখি একটু পর পর কিচিরমিচির তো করতেই থাকে।

আহা! “যেন প্রকৃতিই সবচেয়ে আপন। হ্যা। আমি প্রকৃতিকে খুব বেশিই আপন মনে করি। কারণ বিষন্নতার মাঝে খোলা আকাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকানোর মাঝে আমি সুখ খুঁজে পাই”।
যখন আমি অনেক খুশি থাকি আমার পাশ দিয়ে ঘুরতে থাকা প্রজাপতি আমার খুশি আরোও অনেক বেশি  বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রকৃতির প্রতিটা ছোট ছোট জিনিস, অনুভূতি, প্রকৃতির আর্তনাদ খুব সহজেই উপলব্ধি করি। প্রকৃতির রূপ, রং, গন্ধ অনুভব করার মাঝেই জীবনের অন্যতম সুখ বিলাস করা যায়।

“আমাদের জীবনের সবচেয়ে ভালো সময় ছোট ছোট খুশির মাঝেই জীবিত। যারা এই ছোট ছোট খুশিগুলো চিনতে পারে। তাদের জীবনকে তারাই স্বস্তির সাথে উপভোগ করতে পারে।”
চারপাশের প্রকৃতি দেখে নিজের সাথে নিজের কথা বলা যায় দুপুরে। ক্লান্তিময় দুপুর গড়িয়ে ঠিক প্রকৃতি অসাধারণ বিকেল উপহার দেয়।
আর এভাবেই আমি দুপুর গড়িয়ে বিকেল কে প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়াকে অনুভব করি।

 


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

error: Content is protected !!