মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

দূর্ব্যবহার || সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

তৃতীয় শ্রেনী থেকে একবার অটো প্রমোশন দিয়ে আমাকে ছমির স্যার পঞ্চম শ্রেনীতে উঠিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে চতুর্থ শ্রেনীতে পড়া হয়নি। একই ভাবে দুই দেশ ভিন্ন হবার সন্ধিক্ষণে অর্থাৎ একাত্তরের ডিসেম্বরে পরীক্ষা না দিয়েই উঠে ছিলাম নবম শ্রেনীতে। সেই দু’টো পরীক্ষা দিতেই হবে। বাধ্যতামূলক। কারণ, শৈশবে এবং কৈশোরের দু’টো ক্লাশে আমার অনেক কিছু শেখা হয়নি। তাই এখন পদে পদে বিপদে পড়ছি, বিপথে যাচ্ছি, হরদম হোঁচট খাচ্ছি।

পরীক্ষার হলে ফুটফুটে বাচ্চাগুলো আমার নাত-নাতনির মতো আর পরীক্ষক আমার ছেলের সমবয়সী। আমাকে দেখে ছাত্রছাত্রীরা প্রাণ খুলে হাসাহাসি করলো। আদু ভাই, দাদু ভাই বলে চুইংগাম-চকলেট দিলো। কিন্তু টিচার আমাকে কিছুতেই পরীক্ষা দিতে দিচ্ছেন না! আমি আমার বাপদাদা চৌদ্দগোষ্ঠির নামধামসহ আইডি, এডমিট কার্ড দেখালাম। তিনি তা বিশ্বাস করলেন না। আমাকে ভৎসনা করলেন। বললেন, ‘মশকরা মারতে এসেছেন? বেরিয়া যান! যান বলছি’….. বলে আরো অপমানমূলক গালি দিলেন।

আর ইতিহাস স্যার ঐতিকাসিক ভাষায় ভাষণের মতো বললেন, ‘আপনার জন্ম গন্ডগোলের অনেক আগে, পাকিস্তান আমলে। আপনার মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশী পাসপোর্ট আর থাকেন কানাডায়। আপনার পরিচয়ে ঝামেলা আছে এবং আপনি খুবই সন্দেহজনক ব্যক্তি’!

পরে ভিকারুননেসা নুন  স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল এসে আমাকে নারায়নগঞ্জের শ্যামলকান্তি ভক্তের মতো কানে ধরে উঠালেন, বসালেন! নোংরা কন্ঠে বললেন- ‘যান, বেরিয়ে যান। নীলক্ষেত থেকে একটা সার্টিফিকেট কিনে নিয়ে শ্বশুড়বাড়ি যান শালীরা খুশি হবে অথবা অনলাইনে ৭০ ডলার দিয়ে একটা ‘ডক্টরেট’ কিনে গলায় বাধিঁয়ে টক শো’তে যান। যান, বেরিয়ে যান। নইলে সেনাবাহিনী ডাকবো!’

অতপর ঘাড় ধরে আমাকে বের করে দিলেন! তখন আমার নাতি-নাতিনী ছাত্রছাত্রী ভাইবোনগুলো আমার জন্য প্রতিবাদ করলো।

ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮। টরন্টো।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত