রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২

দেশে আমদানির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাড়ছে না রপ্তানি আয়

দেশে আমদানির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাড়ছে না রপ্তানি আয়। ফলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড পরিমাণ বাড়ছে। রপ্তানি কম হওয়ায় বরাবরই বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতিতে থাকে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আমদানি ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। আর এতে আমদানি-রফতানির মধ্যে বড় ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে দেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭৫৬ কোটি ডলার। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে রপ্তানি করে দেশ আয় করেছে চার হাজার ১১০ কোটি ডলার। যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে আলোচিত দশ মাসে পণ্য আমদানির পেছনে ব্যয় হয়েছে ছয় হাজার ৮৬৬ কোটি ডলার। এটিও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। কিন্তু আমদানি-রপ্তানি দুটিই আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় থেকে রপ্তানি আয় বাদ দিলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় দুই হাজার ৭৫৬ কোটি ডলার বা ৬৭ শতাংশ।

তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পণ্য বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতির পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি। এমনকি ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরো সময়ের (জুলাই-ডিসেম্বর) সাথে তুলনা করলেও চলতি অর্থবছরের দশ মাসে ঘাটতির পরিমাণ বেশি। চলতি দশ মাসে ঘাটতি দুই হাজার ৭৫৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময় ছিল এক হাজার ৮০১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরো সময়ে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাণিজ্য ঘাটতি ছিল দুই হাজার ৩৭৭ কোটি ডলার।

অন্যদিকে এই দশ মাসে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে সেবা খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৭৯৫ কোটি ডলার। অন্যদিকে সেবা খাতে দেশের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি ডলার। সেই হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩১৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ২১৫ কোটি ডলার।

একই সঙ্গে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) বড় ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে এ ঘাটতির (ঋণাত্মক) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৬৫ লাখ ডলার। সামগ্রিক লেনেদেনে (ওভারঅল ব্যালান্স) ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭১ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ সূচকে ৭৪৯ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

প্রসঙ্গত, জুলাই থেকে মে পর্যন্ত এক হাজার ৯১৯ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। যা ছিল আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম। দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) পরিমাণ বেড়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ২৮৭ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে ৩৮৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।


© 2022 - Deshbarta Magazine. All Rights Reserved.