বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ধান চাষের অর্ধেক টাকাও উঠছে না

এ বছর বোরো ধান আবাদে রাজবাড়ীতে ধানের বাম্পার ফলন হলেও সব খরচ মিটিয়ে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। সরকার সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান না কিনে ব্যবসায়ীদের থেকে ধান কেনায় লোকসানে পড়তে হচ্ছে।

প্রধান অর্থকারী ফসলের মধ্যে ধান অন্যতম। প্রতিবছর রাজবাড়ীর ৫টি উপজেলায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন করে কৃষকরা। তবে এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের ফলন ভালো হলেও খরচের তুলনায় অর্ধেক দাম পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।

প্রতিবিঘা জমিতে চাষ শুরু থেকে ধান কেটে বাড়িতে আনা পর্যন্ত কৃষকদের খরচ হয় ৮-১০ হাজার টাকা এবং ধান উৎপাদন হয় বিঘাপ্রতি ১৮-২২ মণ। বর্তমানে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০ টাকা (মণ) দরে। ধান কাটার জন্য প্রতিটি শ্রমিকের মজুরি ৫০০-৬০০ টাকা এবং সঙ্গে ৩ বেলা খাবার।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীতে এ বছর বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে যা গত বছর ছিল ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদরে ৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন।

কৃষকরা বলেন, এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে কিন্তু ধান চাষ করতে যে টাকা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক টাকাও উঠছে না। বাজারে ধানের দাম প্রতিমণ ৫০০ টাকা বিক্রি করছেন। কিন্তু এক মণ ধানে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০০ টাকা। সরকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান কেনায় তারা লোকসানে পড়ছেন।

ধান বিক্রি করে শ্রমিকদের কেমন করে টাকা দেবেন, এখন তাও বুঝতে পারছেন না। কারণ কেউ ধান কিনছেন না। ধান চাষ করতে গিয়ে অনেকে ঋণী হয়ে পড়েছে। এখন কীভাবে এ লোকসান কাটিয়ে উঠবেন?


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

error: Content is protected !!