বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

নতুন বছরে নতুন চাকরি খোঁজার উপায়

অর্ণব সান্যাল

২০২০ সালকে মজা করে অনেকেই বলেন, ‘বিষ বিষ’। ‘শ’-এর অবস্থান পরিবর্তিত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো কোভিড-১৯ মহামারি। করোনাভাইরাস পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি বিভিন্ন খাতে ব্যাপক বদল এনেছে। কর্ম খাতের ধারা বদলে দিয়েছে করোনাভাইরাস। সেই সঙ্গে বেকারত্বের হারও বেড়েছে। কতটা বেড়েছে, তার একটি আন্দাজ পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব পেলে।

গত ২ জানুয়ারির এক হিসাবে দেখা গেছে, শুধু এর আগের সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বেকার অবস্থায় চলে গেছেন ৭ লাখ ৮৭ হাজার মার্কিনি। করোনা–পূর্ব সময়ের তুলনায় এ হার প্রায় চার গুণ। আবার গত মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে বেকারত্বের হার গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বেকার হয়ে পড়েছিল তরুণ জনগোষ্ঠী।

অবশ্য বর্তমানে করোনার টিকা বাজারে আসায় মহামারির রূঢ় বাস্তবতায় বদলের হাওয়া লেগেছে। বলা হচ্ছে, নতুন নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। এমন অবস্থায় নতুন বছরে নতুন চাকরি খুঁজতে হবে অনেককেই। কেউ কেউ হয়তো মহামারিকালীন অভিজ্ঞতার কারণে বর্তমান চাকরিও পরিবর্তন করতে চাইতে পারেন। এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক, নতুন বছরে নতুন চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় বিবেচনায় নেবেন—

১. গুরুত্ব মাপতে হবে

চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে আগে ঠিক করতে হবে, কী ধরনের চাকরি করতে চাইছেন। যেকোনো চাকরিতে আবেদন পাঠানোর বদলে, নিজে কোনটি চান, সেটি নির্ধারণ করতে হবে। আপনি আগে কোন ধরনের চাকরিতে ছিলেন বা তাতেই থাকতে চান কি না, সেটি বুঝে দেখুন। এরপর কোন ধরনের চাকরি আপনার প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করতে হবে। কারণ, কারও জন্য চাকরি শুধু বেতন পাওয়ার বিষয়। আর কারও জন্য তা মানসিক প্রশান্তি পাওয়ারও জায়গা এবং ক্যারিয়ারে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিঁড়ি। সুতরাং চাকরিটাকে কী দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখবেন, সেটি প্রথমেই ঠিক করতে হবে। জানতে হবে, আপনি ক্যারিয়ারে আসলে কী চান। এই প্রশ্নের উত্তর জানতে পারলে পথ সহজ হয়ে যাবে।

২. প্রয়োজনীয় খোঁজখবর

একবার নিজের আকাঙ্ক্ষিত চাকরির ক্ষেত্র ঠিক করে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া শুরু করতে হবে। ওই নির্দিষ্ট খাতে আপনার উপযোগী চাকরির সুযোগগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে চান, সেগুলোর বিভিন্ন খুঁটিনাটি তথ্য জানার চেষ্টা করতে হবে। কারণ, সাক্ষাৎকারে সফল হতে চাইলে এসব তথ্য জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। তা না হলে সাক্ষাৎকারে নিজের উপযোগিতা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

৩. নতুন কাজ শেখা

নতুন কাজে বা কোনো নির্দিষ্ট জানাশোনা বাড়ানো এখন বেশ সহজ। স্মার্টফোনের দুনিয়ায় ইন্টারনেট অনেকেরই হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। ক্যারিয়ারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে অনলাইন কোর্স করতেই পারেন। এতে নিজের দক্ষতা বাড়বে এবং বহুমুখী হবে। এসব দক্ষতা সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে জীবনবৃত্তান্তে। চাকরিদাতাকে বোঝাতে হবে যে নিজের দক্ষতা বাড়াতে আপনি আগ্রহী এবং নতুন নতুন কাজও শিখতে চান। এতে লাভ বৈ ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই।

৪. অস্থায়ী, ফ্রিল্যান্স ও চুক্তিভিত্তিক কাজ

মহামারির কারণে সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই কিছু না কিছু আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। ফলে স্থায়ী চাকরির বদলে অস্থায়ী, ফ্রিল্যান্স ও চুক্তিভিত্তিক কাজের সংখ্যা বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং এসব কাজের মাধ্যমে নিজের জীবনবৃত্তান্ত সমৃদ্ধ করার সুযোগ নেওয়া যায়। আবার অস্থায়ী পদে চাকরি শুরু করেও স্থায়ী হওয়ার সুযোগ আসতেই পারে। মূল বিষয় হলো, ভালো কাজ করা। কর্মী হিসেবে নিজের চাহিদা সৃষ্টি করতে পারলে সুবর্ণ সুযোগ আসবেই।

৫. হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদন

নিজের শক্তিশালী দিকগুলোকে জীবনবৃত্তান্তে এমনভাবে সাজাতে হবে, যেন একনজরেই চাকরিদাতা সে সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন। ভাষা, ব্যাকরণ ও বানানের শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। নিজের অর্জন ও দক্ষতার আকর্ষণীয় দিকগুলো বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে। আমরা অনেকেই জীবনবৃত্তান্ত লেখার ক্ষেত্রে কিছুটা অবহেলা করে থাকি। এটি একেবারেই করা যাবে না। জীবনবৃত্তান্ত এমনভাবে সাজাতে হবে, যেন চাকরিদাতা চোখ বুলিয়েই আপনমনে বলে ওঠেন, ‘হ্যাঁ, এই ব্যক্তিকেই আমাদের দরকার।’ একই সঙ্গে লিংকডইন ও বিভিন্ন অনলাইন জব সাইট ব্যবহারেও দক্ষ হতে হবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিএনবিসি, ফোর্বস, দ্য মুজে ডটকম ও এনবিসি নিউজ


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত