রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

নতুন মায়ের খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিত?

গর্ভকালীন সময়ে নারীদের খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে একটু বেশি সচেতন থাকতে হয়। ঠিক তেমনি বাচ্চা জন্ম দেবার পরও খাবারে খাওয়া থাকতে হয় আরও বেশি সচেতন। পুষ্টিকর খাদ্য একজন মায়ের অনেক বেশি দরকারি। কারণ মায়ের বুকের দুধের উৎপাদন নির্ভর করে পুষ্টিকর খাবারের উপর। এই সময় এমন কিছু খাবার আছে যা খাওয়া একদম উচিত নয়। ঠিক তেমনি এমন কিছু খাবার আছে যা প্রতিটি নতুন মায়ের খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।
১। ডিম
প্রোটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড সমৃদ্ধ ডিম প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। এটি কাজের শক্তি প্রদান করে দেহের স্ট্যামিনা বৃদ্ধি করে থাকে। এছাড়া ডিমের কুসুমে ভিটামিন ডি, মিনারেল এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা বাচ্চার হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। দিনে এক থেকে দুটি ডিম খাওয়ার চেষ্টা করুন।
২। ওটমিল
ওটমিল অনেক জনপ্রিয় ল্যাকটোজেনিক ফুড। উচ্চ আঁশযুক্ত এই খাবারটি সহজে হজম হয়। নতুন মায়েরা প্রায় সময় কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগে থাকেন। ওটমিল এই সমস্যা দূর করে। আয়রন সমৃদ্ধ হওয়া এটি মায়েদের রক্ত স্বল্পতা দূর করে এবং বুকের দুধ বৃদ্ধি করে থাকে।
৩। কাঠবাদাম
ভিটামিন ই এবং আরও কিছু প্রয়োজনীয় এসেন্সিয়াল অয়েল সমৃদ্ধ কাঠবাদাম নিয়মিত খাওয়া উচিত নতুন মায়েদের। এর পুষ্টি উপাদান মা এবং শিশু উভয়ের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কাঠবাদামে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। শিশুর দাঁত এবং হাড় গঠনে ভূমিকা রাখে এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড।
৪। পালং শাক
যেকোন সবুজ শাক-সবজি নতুন মায়েদের জন্য উপকারী। এর মধ্যে পালং শাক অন্যতম। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ফলিক অ্যাসিড থাকে, যা নতুন রক্ত কোষ তৈরি করে। যে সকল মায়েদের শিশু জন্মদানের সময় রক্তপাত হয়ে থাকে তাদের জন্য পালং শাক খাওয়া অনেক প্রয়োজন।
৫। জিরা
জিরা আরেকটি সুপার ফুড যা নতুন মায়েদের ল্যাকটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং খাবার হজম হতে সাহায্য করে। চার কাপ পানিতে এক থেকে দুই চামচ জিরা মিশিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। এর সাথে মধু অথবা চিনি যোগ করুন। এটি সারা দিন পান করতে পারেন। এছাড়া এক চা চামচ জিরা খাবার খাওয়ার পর চিবিয়ে খান।
৬। দুধ
প্রতিদিন দুই গ্লাস করে দুধ পান করুন। ক্যালসিয়াম, ভিটামিনসহ অনেকগুলো পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে এক গ্লাস দুধ। এছাড়া দুধ শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
৭। স্যামন মাছ
স্যামন মাছের ডিএইচএ নামক ফ্যাটি অ্যাসিড শিশুর নার্ভ সিস্টেমকে উন্নত করে। এছাড়া ভিটামিন বি১২, উচ্চ প্রোটিন মাতৃকালীন হতাশা দূর করে থাকে। তাই নতুন মায়ের খাদ্য তালিকায় স্যামন মাছ রাখার চেষ্টা করুন।
এই খাবারগুলোর ছাড়াও ব্রাউন রাইস, মেথি, ব্লুবেরি, কমলা নিয়মিত খাওয়া উচিত। নতুন মায়েদের প্রচর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত