রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

শিশুকে কীভাবে শোয়ানো ভালো?

ডা. আবু সাঈদ শিমুল
রেজিস্ট্রার, শিশু বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল 

নবজাতকের যত্নের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে শোয়ানোটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঠিকভাবে না শোয়ানো হলে তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। ফলে শিশুটির বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়। পশ্চিমা দেশগুলোতে নবজাতক ও মা একই বিছানায় ঘুমায় না, তাদের জন্য আলাদা কড থাকে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, নবজাতককে মায়ের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতে দিলে কোনো ক্ষতি হয় না। এতে বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে আবার মায়ের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানোর ফলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোও সহজ হয়।

বাচ্চাকে ঘুমানোর ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যেন কাত বা চিৎ হয়ে ঘুমাতে পারে সে। শিশুকে কখনোই উপুড় করে শোয়ানো উচিত নয়। উপুড় করে শোয়ালে বাচ্চার নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বুকেও চাপ লাগতে পারে।

বাচ্চাকে কখনও নির্দিষ্ট একটি দিকে কাত করে ঘুম পাড়াবেন না। মাঝেমধ্যে এপাশ-ওপাশ করে দিন। অবশ্য বাচ্চার যদি কখনও বমি বেশি হয় তখন তাকে বাম দিকে কাত করে শোয়ালে ভালো হয়। এতে পাকস্থলী ও খাদ্যনালির সংযোগস্থলে চাপ বাড়ে এবং বমি কম হয়।

অনেকেই বাচ্চাকে কোলে রেখে ঘুম পাড়ান, এতে কিন্তু পরবর্তীতে অসুবিধা হয়, কারণ বাচ্চা অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। বিছানায় নিলেই দেখা যায়, এসব বাচ্চা জেগে ওঠে, ফলে বাচ্চার ঘুমের সমস্যা হয়।

অবশ্য শরীর খারাপ থাকলে, বিশেষ করে পেটে ব্যথা হলে ঘুমের সমস্যা হয়। তখন কোলে নিয়ে কাঁধে মাথা রেখে ঘুম পাড়ালে আরাম পায়। শিশুদের জন্য সবচেয়ে ভালো হলো বালিশ ছাড়া আরামদায়ক বিছানায় শোয়ানো। বালিশ ব্যবহার করলে ঘুমানোর সময় ঘাড় ও গলা বেঁকে যায় বা ভাঁজ পড়ে, এতে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়।
ঘুমের মধ্যে যদি নাকে শব্দ হয় তবে বুঝতে হবে শিশুর শ্বাসনালিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এক্ষেত্রে গলায় বা নাকে কিছু আছে কি-না দেখতে হবে, যদি থাকে তাহলে সেটা পরিস্কার করতে হবে।

শিশুকে ঘুমানোর সময় বিছানার যে পাশে দেয়াল আছে, তার কাছাকাছি শোয়ান। দেয়াল না থাকলে বালিশ দিয়ে রাখুন, যাতে শিশু পড়ে না যায়। ঘুমের মাঝেও কিন্তু যে কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে, তাই ঘুমিয়ে পড়লেও শিশুকে কখনও একা রেখে যাবেন না। সবসময় বাচ্চার কাছাকাছি থাকবেন।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত