সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

নাব্যতা সংকটের ফলে নদী হারিয়ে যাচ্ছে

জাকির হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

ভরাট হওয়া অভ্যন্তরীণ নদী এখন সুনামগঞ্জের হাওরবাসীর গলার কাঁটা। হাওরবাসীকে নিরাপদ করতে এসব নদী খননের বিকল্প নেই। পাহাড়ী ঢলে নেমে আসা পলিমাটি এবং নদীর বুকে অপরিকল্পিত ভাবে নদী শাসনের কারণে খরস্রোতা নদী যৌবন হারিয়ে বিপন্ন করেছে হাওরবাসীকে।

নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় মালবাহি নৌ চলাচলে বিগ্ন ঘটছে। হাওরের অভ্যন্তরীণ খাল এবং এক সময়ের খরস্রোতা নদীর উপর এখন সবজী ও ধানের চাষ করছেন কৃষকরা। ভারী বৃষ্টি কিংবা উজানের ঢল সামাল দিতে পারছে না এসব নদী।

নদীর পানি হাওর ডুবাচ্ছে, জনপদের ক্ষতি করছে, মানুষের যাতায়াত বিড়ম্বনা বাড়িয়ে দিয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারার শাখা নদীর ৯৮ কিলোমিটার নদীর খনন কাজ চলছে। কিন্তু তাতে সমস্যা মিটছে না, হাওরের অভ্যন্তরীণ ছোট ছোট নদী এবং খালের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওায়ায় প্রতিনিয়তই নৌজট লাগছে। তাতে করে দিনের পর দিন শতশত বালি-পাথর বুঝাইকৃত নৌকা আটকা থাকতে হচ্ছে নদীতে।

জেলার তাহিরপুরের রক্তি, বৌলাই, যাদুকাটা, পাটলাই, কেন্দুয়া, আতলা ও পাইকরতলা, জামালগঞ্জের আপর বৌলাই, পিয়াইন ও কানাইখালী, ধর্মপাশার ঘুমাই, মনাই, গাছি, সুমেশ্বরী ও কংস, শাল্লার দাড়াইন, ধনু এবং কুশিয়ারা নদীর আজমিরিগঞ্জের পরের অংশ, বিশ্বম্ভরপুরের যাদুকাটা, রূপসা ও ঘটঘটিয়া, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের নাইন্দা ও মরা সুরমা, জগন্নাথপুরের কামারখালী ও নলজুর, দিরাই উপজেলার কালনী ও চামতি নদী খনন করার দাবি করছেন স্থানীয়রা।
নদীতে নাব্যতা সংকটের কারনে নৌকা আটকা পরে থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নৌ শ্রমিকরা পরেছেন সবরচেয়ে বেশি বিপাকে। জানালেন স্থানীয়রা।

তাহিরপুর উপজেলার সোলেমানপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন জানালে, প্রতিবছরই নাব্যতা সংকটের ফলে নদী শুকিয়ে যায় এবং নৌ চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর ছিদ্দিক ভুইয়া জানালেন, এখনো যেসব নদী খনন করা হয়নি সেসব নদীতে তলদেশ শুকিয়ে নৌ চলাচলে বিগ্ন ঘটছে। তবে এসব নদী খননের জন্য ডিপিপি প্রনয়ন করে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই এসব নদী খননের কাজ শুরু হবে।

নোট :  ছবিগুলো তাহিরপুর উপজেলার বৌলাই নদীর।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত