শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

নিউমোনিয়ায় প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে মৃত্যু হয় একটি শিশুর

বাংলাদেশে ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের কমবয়সী ১২ হাজারেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ায়, অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় একজনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করা শিশুদের ১৩ শতাংশেরই মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ায়।

বিশ্বজুড়ে শিশুদের নিয়ে কর্মরত ছয়টি শীর্ষস্থানীয় সংস্থা- আইএস গ্লোবাল, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউনিসেফ, এভরি ব্রেথ কাউন্টস, ইউনিটএইড ও ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স জিএভিআই-এর নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার ইউনিসেফের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, অন্যান্য সংক্রমণের তুলনায় প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিউমোনিয়ায় বিশ্বজুড়ে অধিক সংখ্যক শিশুর মৃত্যু হয়। গত বছর বিশ্বজুড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৮ লাখেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়ায়, অর্থাৎ প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে মৃত্যু হয় একটি শিশুর।

এতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে অন্য যেকোনো রোগের তুলনায় নিউমোনিয়ায় অনেক বেশি সংখ্যক পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই বছর বিশ্বজুড়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪ লাখ ৩৭ হাজার শিশু ডায়রিয়ার এবং ২ লাখ ৭২ হাজার শিশু ম্যালেরিয়ায় মারা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিউমোনিয়ায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিশুর মৃত্যুর জন্য পাঁচটি দেশ দায়ী। দেশগুলো হলো- নাইজেরিয়া (১ লাখ ৬২ হাজার), ভারত (১ লাখ ২৭ হাজার), পাকিস্তান (৫৮ হাজার), গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (৪০ হাজার) ও ইথিওপিয়া (৩২ হাজার)।

টিকা দিয়ে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং সঠিকভাবে নির্ণয় করা গেলে স্বল্প ব্যয়ের অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সহজেই নিউমোনিয়ার চিকিৎসা করা যায় উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিন্তু কোটি শিশুকে এখনও টিকা দেওয়া হচ্ছে না এবং প্রতি তিনটি শিশুর একটির মধ্যে লক্ষণগুলো উপস্থিত থাকলেও তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পায় না।

নিউমোনিয়া মোকাবেলার জন্য যে তহবিল পাওয়া গেছে তা অন্যান্য রোগের তুলনায় অনেক কম- একথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যদিও বর্তমানে বিশ্বে মৃত্যুবরণ করা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১৫ শতাংশই নিউমোনিয়ায় মারা যায়, তা সত্ত্বেও বৈশ্বিকভাবে সংক্রমণজনিত রোগ নিয়ে গবেষণা ব্যয়ের মাত্র ৩ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয় নিউমোনিয়া গবেষণার জন্য।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংস্থাগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সরকারের প্রতি নিউমোনিয়াজনিত শিশুমৃত্যু কমাতে নিউমোনিয়া নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি বিস্তৃত কৌশলের অংশ হিসেবে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাপ্রাপ্তির সুবিধা উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ টিকাগুলোর ব্যয় কমিয়ে এবং ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স জিএভিআই-এর ঘাটতি সফলতার সঙ্গে পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে টিকাদানের পরিধি বাড়াতে এবং নিউমোনিয়া মোকাবেলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য তহবিল বাড়াতে ধনী দেশসমূহ, আন্তর্জাতিক দাতা ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত