বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

নেতৃত্ব নিয়ে চাপা ক্ষোভ রংপুর আওয়ামী লীগে

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠনের পরিতৃপ্তি থাকলেও নেতৃত্ব নিয়ে চাপা ক্ষোভ রয়েছে রংপুর আওয়ামী লীগে। তাই দলীয় কার্যক্রমে সবাই একযোগে অংশ নিলেও বিচ্ছিন্নতা ও অন্তর্দ্বন্দ্ব তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে স্থানীয় নেতাকর্মী সবাইকে। সাম্প্রতিক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে- মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধিতা করেছেন।

গত দু’বারের মতো এবারের জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টি মহাজোটগতভাবে ভোটের মাঠে ছিল। আসন সমঝোতার মাধ্যমে রংপুরের ছয়টি আসনের প্রতিটিতেই জিতেছেন মহাজোট প্রার্থীরা। এতে ক্ষমতাসীনদের রাজনীতি এখানে আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগে বিভেদ তৈরি হয়েছে সদ্যসমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলা নির্বাচনে দল থেকে নাসিমা জামান ববিকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু দলের একাংশের সমর্থনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) রংপুর জেলা সভাপতি ডা. দেলোয়ার হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হন। এতে জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। বেশির ভাগ নেতা ববিকে সমর্থন দিলেও একাংশের নেতারা নির্বাচনী প্রচারণা চালান ডা. দেলোয়ারের পক্ষে। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভেতরের দ্বন্দ্ব বাইরে চলে আসে।

এদিকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও রংপুর-৫ আসনের এমপি এইচ এন আশিকুর রহমানের সঙ্গে জেলা ও মিঠাপুকুর উপজেলা নেতাদের আগেকার দ্বন্দ্ব এখনও দূর হয়নি। সরকারের কোনো উন্নয়নমূলক কাজেও এই এমপির পাশে জেলা নেতাদের দেখা যায় না। মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গেও তার দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল থেকে জাকির হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও এমপি তার পছন্দের প্রার্থী মেজবাহুর রহমান মঞ্জুকে ভোটের মাঠে নামান বলে অভিযোগ রয়েছে। আশিকুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক হলেও দলীয় অনুষ্ঠান আলাদা আলাদাভাবে পালন করে আসছেন।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত