বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

পরিচয়হীন

সাকিনা কাইউম (শম্পা)

ওরে আমার লক্ষ্মী মা! সোনা মা!
আমার প্রাণের প্রাণ।
আমার চোখের মানিক রে তুই
আমার জানের জান।।

দিনে দিনে বড়ো হবি
ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার সবই
নার্স হয়ে করবি সেবা
প্লেন চালিয়ে বিদেশ যাবি!

হাত বাড়িয়ে আকাশ ছুঁবি
যা ইচ্ছে তাই করবি।
পঙ্খীরাজা ঘোড়ায় চড়ে
রাজকুমারের দেশে যাবি।

দিন গেলো, সময় গেলো
মেয়ে আমার বড় হলো,
বিদ্যালয় পার হতেই
কতো রাজার কুমার এলো।

স্বজন বলে,পড়শি বলে
মেয়ে এখন বিদায় কর,
মেয়ে কিছু বোঝার আগেই
রাজকুমার নিয়ে গেলো।

দিন গেলো… বছর গেলো
মেয়ে আমার মা হলো,
কিন্তু তার ঐ স্বপ্নগুলো
একটু একটু নষ্ট হলো।

মেয়েটা আমার বড্ড জেদী
পড়াশোনায় দারুণ!
ঝড়-ঝামেলা সব পেরিয়েও
শেষ করলো গ্রাজুয়েশন

হঠাৎ করেই খবর পেলো
চাকরিটা তার হয়েই গেলো,
সাথে বাধা এলো রাজার ঘরের
করল মানা উচ্চ স্বরে;
“চাকরি করবে কেনো?”

মেয়েটি এখন বড়ো একা
মনটা তার বড্ড ফাঁকা,
তবুও সে সবার সাথে
চলছে কতো হাসিমুখে।
কেউ দেখে না জমাট ব্যথা!

রাতটা তার কেটে গেলেও
ঘুমাতে দেয় না স্বপ্নগুলো,
বিনা মেঘে চোখের জ্বলে
অজস্র রাত কেটে গেলো।

আমিও আবার কম যাই না
বকুনি আর চোখ রাঙ্গানোয়,
রাজকুমারের রাজার দেশে
কিসের এতো অভাব শুনি?

চাকরি-বাকরী বাদ দে ওসব
সংসারে দে মন
এতো সহজ নয় রে জীবন
আমার কথা শোন?

হঠাৎ মেয়ে বলে বসে
চোখ রাঙিয়ে মুখ ফুলিয়ে-
ক্রোধে বেঁধে ক্ষত ;
“তবে কেনো অবুঝ বেলায়-
স্বপ্ন দিলে এতো?”

অট্টালিকা- অর্থকরী সবই অঢেল আছে
জীবন বলতে যে নিজের পরিচয়-
সেটাই ঘুচে গ্যাছে!



©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত