বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১

পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে তৈরি হয়েছে চার ধরনের সংকট

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপা নিয়ে চার ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের নতুন বইর বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রেসের সঙ্গে চুক্তিই শেষ হয়নি। বাজারে নেই এমন কাগজে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানোর শর্ত দেওয়া হয়েছে। ফলে একটি বইও ছাপা হয়নি। এছাড়া গত বছরের বকেয়া বিল ও মামলার কারণে বই ছাপার বিষয়টি দেরি হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে এ তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, পাঠ্যবই নিয়ে প্রতিবছরই সংকটের কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বই পেয়ে যায়। প্রাথমিকের বই পুরোদমে মুদ্রিত ও সরবরাহ হচ্ছে। মাধ্যমিকের বেশিরভাগ বইয়ের চুক্তি শেষ হয়েছে। কিছু বই সরবরাহও হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক স্তর নিয়ে যে সমস্যা, তা দু-একদিনের মধ্যে কেটে যাবে।

প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এবার প্রায় ৩৫ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে। এরমধ্যে প্রাথমিকে ১০ কোটি আর মাধ্যমিকে ২৫ কোটি। সাধারণত ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হয়। সেই হিসাবে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি আছে ৫৭ দিন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যথাসময়ে কিছুতেই বই পৌঁছানো সম্ভব হবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাব্য যে সংকটের শঙ্কা করা হচ্ছে এর দায় এনসিটিবিরই। মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া দেরিতে করা হয়। সে অনুযায়ী, মুদ্রাকররা ৯ নভেম্বর এ বই ছাপানোর ব্যাপারে এনসিটিবির সঙ্গে চুক্তি হবে। দরপত্রে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই ছাপাতে চুক্তির পর ৭০ দিন আর অষ্টম-নবম শ্রেণির বইয়ের জন্য ৮৪ দিন দেয়া হবে। এ হিসাবে প্রথম দুই শ্রেণির বই সরবরাহে মুদ্রাকররা মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত সময় পাচ্ছেন। আর পরের দুই শ্রেণির বই ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পৌঁছায়। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এ স্তরে এবার ১ জানুয়ারির মধ্যে বই কিভাবে পৌঁছাবে।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত