সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

পাসপোর্টের ইতিহাস

পাসপোর্ট একটি অফিসিয়াল ডকুমেন্ট, যা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়ে থাকে। এতে একজন পাসপোর্টধারীর পূর্ণ পরিচয় ও নাগরিকত্ব ঘোষণাসহ বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে পাসপোর্ট বিভিন্ন সময়ে বিবর্তিত হয়েছে। সে হিসেবে বাংলাদেশের পাসপোর্টের ধরনও পাল্টেছে। আসুন জেনে নেই পাসপোর্ট সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-

পাসপোর্টের ইতিহাস: ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম হেনরির সময়েই প্রথম কোনো বিদেশিকে নির্দিষ্ট করার জন্য ভ্রমণ তথ্য হিসেবে পাসপোর্টের ধারণা শুরু হয়। তার সময়েই ১৫৪০ সালে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টে (প্রাইভেসি কাউন্সিল অব ইংল্যান্ড) আইন পাস করে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। ১৭৯৪ সালে ক্যাবিনেট মিনিস্টারসহ সরকারি চাকরিজীবীদের পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। পাসপোর্টের ইতিহাস থেকে জানা যায়, জাপান সরকার তার দেশের নাগরিকদের জন্য প্রথম পাসপোর্ট ইস্যু করে ১৮৬৬ সালের ২১ মে।

আধুনিক পাসপোর্ট: আন্তর্জাতিকভাবে আধুনিক পাসপোর্টের ধারণা শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘কনফারেন্স অন পাসপোর্ট অ্যান্ড কাস্টমস ফ্যামিলিয়ারিটিজ থ্র টিকিট’ লীগ অব নেশন্স বৈঠকের মাধ্যমে। এ কনফারেন্সে আধুনিক পাসপোর্টের বুকলেট ডিজাইন ও গাইড লাইন দেওয়া হয়। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের ধারণা আসে ১৯৮০ সালে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে। বাংলাদেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালু হয় ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে। তার আগে ২০০৮ সালে উন্নত দেশগুলোতে ই-পাসপোর্ট চালু হয়।

বাংলাদেশি পাসপোর্ট: বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরই হাতে লেখা পাসপোর্ট চালু হয়। এই হাতে লেখা পাসপোর্ট ব্যবহার করার সময়সীমা ছিল ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশনের নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পরে পৃথিবীর কোন দেশ ট্রাডিশনাল নিয়মে হাতে লেখা পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারবে না। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে ৬.৬ মিলিয়ন হাতে লেখা পাসপোর্টকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে রূপান্তরিত করে। সরকার বর্তমানে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টকে ই-পাসপোর্ট বা বায়োমেট্রিক পাসপোর্টে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত