বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০

পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদ করলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

বেতন বৈষম্য নিরসন তথা সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে এবং প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মহাসমাবেশে পুলিশের বাধা ও লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) মুখে কালো কাপড় বেঁধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবাদ জানান শিক্ষকরা।

গত ২৩ অক্টোবর রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের মহাসমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। তাই আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবি না মানলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনসহ লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়া ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। ১৭ নভেম্বর পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ মহাসমাবেশ ডাকা হয়েছিল।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদরত শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। তাদের উপর পুলিশের বর্বর লাঠিচার্জ কখনোই মেনে নেয়া যায় না। মহাসমাবেশের আগেরদিন ঐক্য পরিষদের নেতাদের সাথে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো জাকির হোসেনের সাক্ষাৎ এবং ভি চিহ্ন দেখিয়ে তোলা ছবি দেখে ভেবেছিলাম বেতন বৈষম্য মনে হয় নিরসন হয়ে গেছে। কিন্তু সরকারের কাছে দাবি জানাতে মহাসমাবেশে উপস্থিত হয়ে পুলিশের মার খেয়েছি। জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে এর প্রতিবাদ জানাই। অন্যদিকে মহাসমাবেশের জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ৪ দিনের কর্মবিরতি পালন শেষে ঢাকার মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৪টি সংগঠন নিয়ে গঠিত মোর্চা বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ। প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইসলাম তোতা জানান, সরকার আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে এবং প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের দাবি না মানলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনসহ লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা এমনকি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা পর্যন্ত বর্জন করা হবে।

শিক্ষকরা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন না করে কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের সাথে প্রহসনমূলক আচরণ করছেন। এতে করে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান কমেছে। বেতন বৈষম্য নিরসন না হলে শিক্ষকরা ২৩ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবেন। মহাসমাবেশ থেকে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিবেন শিক্ষক নেতারা। 

শিক্ষকরা আরও জানান, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের দাবিতে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে সহকারী শিক্ষকরা ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে বসলে তৎকালীণ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ১ মাসের মধ্যে শিক্ষকদের দাবি বাস্তাবয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে আশ্বাসে শিক্ষকরা আমরণ অনশন স্থগিত করেন। কিন্তু ২ বছর পার হলেও শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন হয়নি।

জাতীয় নির্বাচনের আগে শিক্ষকরা আবারো আন্দোলনের ডাক দিলে বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করেন। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০ মাস পার হয়ে গেলেও সঠিক কোনো উদ্যোগ না থাকায় শিক্ষকরা আবারও আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত