সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১

প্রেগন্যান্ট অবস্থায় রূপচর্চায় এই ৬টি ভুল করবেন না

প্রেগন্যান্ট অবস্থার সৌন্দর্য অন্যরকম। আর এই সৌন্দর্য দেখতে পায় শুধু আপনজনেরাই। তবুও আপনার নিজের মনের খুতখুত হয়তো থেকেই যায়।

মোটা লাগছেনা তো? চোখের নিচে কালি পড়লনা তো? চুল নিষ্প্রাণ লাগছে না তো? এরকম আরও কত কি।

স্বভাবতই আপনি নিজের পরিচর্যা আগের মতোই করে যাচ্ছেন, বা আরও বেশি কিছু করার চেষ্টা করছেন।

একটা বিষয় ভুলে গেছেন কি? আপনি এখন প্রেগন্যান্ট! তার মানে শুধু নিজের কথা ভাবলে চলবেনা। নিজেকে আরও সুন্দর দেখাতে গিয়ে যদি গর্ভের সন্তানের সামান্যতম ক্ষতিও হয়, তা আপনি মেনে নিতে পারবেন? নিশ্চয়ই না!

আপনি হয়তো জানেন না যে রুপ পরিচর্যায় ব্যবহৃত কিছু পণ্য এবং বিউটি ট্রিটমেন্টে রাসায়নিক পদার্থ থাকার কারণে এটি গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনাদের সতর্ক করব প্রেগন্যান্ট অবস্থায় এই ৬টি বিষয় থেকে দূরে থাকার জন্য-

১। হেয়ার রিবন্ডিং

সুন্দর সিল্কি ঝলমলে চুল সব নারীর কাম্য। আর এই সিল্কি চুল পেতে নারীরা হেয়ার রিবন্ডিং করে থাকেন। কিন্তু গর্ভকালীন সময় হেয়ার রিবন্ডিং করা থেকে বিরত থাকুন। হেয়ার রিবন্ডিং এ সোডিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড নামক এক ধরণের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় যা পানির সাথে মিশে ত্বক জ্বালাপোড়া এবং অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া রিবন্ডিং মাথার তালু থেকে শরীরে ভিতরে প্রবেশ করে। যা রক্তের সাথে মিশে আপনার সন্তানের ক্ষতি করতে পারে।

২। ফেসিয়াল

সাধারণ ফেসিয়াল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার হয় এমন কোন কিছু গর্ভকালীন সময় ব্যবহার করা উচিত নয়। তাপ শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে দেয়। যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হয়।

৩। হেয়ার কালার

অল্প পরিমাণ হেয়ার কালার ত্বক শুষে নেয়। যা সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু গর্ভকালীন অবস্থায় শরীর সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এইসময় সামান্য কেমিক্যালও শরীর সহ্য করতে পারে না। তাই গর্ভকালীন সময়ে হেয়ার কালার ব্যবহার না করাই উত্তম। এর কেমিক্যাল উপাদান  শিশুর বৃদ্ধি বাঁধা গ্রস্ত করতে পারে।

৪। ট্যাটু আঁকা

শরীরের ট্যাটু আঁকানো অনেকের শখ থাকে। ট্যাটু এর কেমিক্যাল প্রভাব কম হলেও এর থেকে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা থেকে হেপাটাইটিস বি এর মত মারাত্নক রোগও হতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময় ট্যাটু আঁকা থেকে বিরত থাকুন।

৫। দাঁত হোয়াটিং

বিশেষজ্ঞরা টিথ অথবা দাঁত হোয়াটিং করতে বারণ করেন গর্ভকালীন সময়ে। এতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল উপাদান শিশুর ক্ষতি করতে পারে। তাই এইসময় যদি দাঁত সাদা করতে চান তবে প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করুন। তা হতে পারে এক টুকরো স্ট্রবেরি কিংবা তেজপাতা আর লেবুর খোসার গুঁড়ো।

৬। নাক, কান ফুঁড়ানো

নাক অথবা কান ফুঁড়ানো সরাসরি শিশুর ক্ষতি না করলেও। অনেক সময় এতে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। যা থেকে অন্যান্য অসুখ হতে পারে।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত