বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০

বত্রিশ নম্বর বাড়ি

সাকিনা কাইউম

আমি যখন ধানমন্ডি বত্রিশ পৌছলাম,
মনে পড়লো ইতিহাসের কালরাত,
বঙ্গবন্ধুর চির স্বাক্ষরিত অধ্যায়।
যতই এগোচ্ছি ভেতরটা আরও স্থির হয়ে যাচ্ছে।
সামনেই সুবিন্যস্ত বৈঠকখানা দেখে মনে হলো,
তিনি আমাদের পাশেই বসে মুচকি হাসছেন।
রাসেল যেন তার সাইকেল নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে।
সারি সারি সাজানো ফ্রেমের মানুষগুলো
তাকিয়ে আছে আমাদের নতুন প্রজন্মের দিকে,
বলছে তোমাদের জন্য যে স্বাধীন দেশ রেখে গেলাম
তোমরা তার যত্ন নিও, ভালোবেসো, কেমন?

পাশের কক্ষে ঘটে যাওয়া সেদিনের বীভৎসতার অবশেষ দেখে
আমি শিউরে উঠলাম।
দেয়ালে দেয়ালে বুলেটের চিহ্নগুলো যেন
আমার বুকে এসে বিঁধছে বারবার!
সাজিয়ে রাখা রক্তাক্ত জামা দেখে মস্তিষ্কের ভিতরে বেজে উঠছে করুণ সুর।
হঠাৎ চোখ আঁটকে গেল একটা চিঠিতে,
তাঁর কারাবাসের সময়ে লেখা বঙ্গমাতার জন্য।
কী দৃঢ়তায় তাঁর লেখায়
এত কষ্টেও তিনি সাহস দিয়েছেন দেশের মানুষকে।

দোতলায় সিঁড়ি দিয়ে উঠে আমি থমকে গেলাম!
এখানেই পড়েছিল জাতির জনকের মৃতদেহ,
সেদিন আর নিজেকে সামলাতে পারিনি,
অশ্রু ঝরছিল নিজের অজান্তেই!
সেদিনই বুঝতে পারলাম তাঁর কন্যা ও স্বজনের কষ্ট,
পরিজনহীন জীবন কতই না নির্মম,
এখনো হয়তো গুমরে গুমরে কাঁদে কোনো কোনো রাতে!

আমার চোখের সামনে যেন ভেসে উঠলো রেসকোর্স ময়দান,
একাত্তরের যুদ্ধ, সেইসব দিন।

যে মহান নেতার ডাকে মানুষ উজ্জীবিত হয়েছিল,
তাঁর কাছে আজ প্রতিজ্ঞা করছি
আমরাই তোমার সোনার বাংলা দেখে রাখবো,
মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর দায়িত্ব
আজ মাথা পেতে নিলাম।
আজ আমরা জীবনের অর্থ বুঝে গেছি,
বুঝে গেছি এই ভূখণ্ডে বেঁচে থাকার লক্ষ্য।
তাই এক সুরে বলি,
“জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত