মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমালোচনায় জাতিসংঘ

ইউএনএইচসিআরকে বাদ দিয়ে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে পাঠানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিচ বলেন, ‘শরণার্থীদের ব্যাপারে নেতৃত্বদানকারী ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে এ নিয়ে যে আলোচনা হয়নি, সেটা স্পষ্ট।’ যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম গার্ডিয়ান গত বুধবার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করেছে।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘকে পাশ কাটানোর অভিযোগ ঠিক নয়। কারণ, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আগে তারা স্বেচ্ছায় ফিরতে চায় কি না, এটি নিশ্চিত করতে ইউএনএইচসিআরের কাজ করার কথা। এ নিয়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সংস্থাটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফেরার বিষয়ে কাজ শুরুর অনুরোধ জানিয়ে সরকার গত ২৮ অক্টোবর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার ঢাকায় দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝিতে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলকে রাখাইনে পাঠানো শুরুর বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রাজি হয়েছে। পরদিন বুধবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনার পর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থুয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম দফায় প্রায় আড়াই হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইনে ফেরত নেওয়া হবে।

এদিকে কক্সবাজারে কর্মরত জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বহিঃসম্পর্কবিষয়ক কর্মকর্তা ক্রিস মেলজারকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইউএনএইচসিআর কোনো পক্ষ নয়। প্রত্যাবাসন যাতে স্বেচ্ছায় আর টেকসই উপায়ে হয়, এই প্রেক্ষাপট থেকে কোনো সময়সীমা কিংবা শরণার্থীদের সংখ্যার বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়ার বিপক্ষে ইউএনএইচসিআর। তালিকা অনুযায়ী মিয়ানমার যেসব রোহিঙ্গাকে নিতে রাজি হয়েছে, তারা বিষয়টি জানে কি না, সেটি স্পষ্ট নয়। এটা তাদের (রোহিঙ্গা) জানা উচিত। তারা যদি ফিরে যেতে চায়, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। তাড়াহুড়া করে কিংবা সময় হওয়ার আগে যাতে তাদের ফেরত পাঠানো না হয়, সেটা ঠিক করা জরুরি।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত