মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

বান্দরবান কেন যাবেন? || জেসমিন সুরভী

বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনধারা পরিদর্শন বিশ্বের যে কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা তার প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যের জন্য গর্ব করতে পারে।

বান্দরবান জেলার মোট আয়তন ৪,৪৭৯.০৩ বর্গ কিলোমিটার।প্রকৃতি প্রদত্ত অবারিত সম্পদ ও সৌন্দর্যের আধার বান্দরবান।
এখানে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পাহাড়রাজি,ঝর্ণা,বন ও ১১ টি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর আদিম জীবনধারা যার বিকল্প দেশের অন্য কোনো অংশে পাওয়া যাবে না।

বান্দরবানের উল্লেখযোগ্য কিছু পর্যটন রয়েছে।
এগুলোর মাঝে অন্যতম হল

তাজিনডং: যা বিজয় নামেও পরিচিত,বাংলাদেশের স্বীকৃত সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা ৪৫০০ ফুট।এ পর্বতশৃঙ্গ জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত।এটি রুমা উপজেলা থেকে ২৫ কি.মি. দূরে অবস্থিত। তাজিনডং ভ্রমণের জন্য শীতকাল সবচেয়ে উপযুক্ত।

কেওক্রাডং: কেওক্রাডং বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা প্রায় ৪৩৩০ ফুট। এটি রুমা উপজেলা থেকে ৩০ কি.মি. এবং বগালেক থেকে ১৫ কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত। কেওক্রাডং মায়ানমার সীমান্তের খুব নিকটে অবস্থিত। পাহাড়ি বৃষ্টি ও ভেসে বেড়ানো মেঘ এসব পাহাড়ে ভ্রমণের বিশেষ আকর্ষণ।

বগালেক: পাহাড়ের চূড়ায় প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট এই জলাধার প্রকৃতির এক বিস্ময়। কোনো ঋতুতেই এ লেকের পানির গভীরতায় কোনো পরিবর্তন হয় না।বগালেকের আয়তন প্রায় ১৫ একর এবং এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১৫০০ ফুট উচুঁতে অবস্থিত। এর পানি স্বচ্ছ নীলাভ।এই লেকের চারপাশে রয়েছে বম,খুমী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহি পাড়া।

রিজুক ঝর্ণা : রিজুক ঝর্ণা জেলার রুমা উপজেলা সদর থেকে ৪ কি.মি. দূরে অবস্থিত। এই ঝর্ণার উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট।সাঙ্গু নদীর কূল ঘেষে অবস্থিত এ ঝর্ণায় ভ্রমণের পথে নদীর দুই ধারের সৌন্দর্যের জন্য এর প্রকৃতি আরো বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠে।

চিম্বুক পাহাড়: জেলা সদর থেকে ২৬ কি.মি. দূরে অবস্থিত চিম্বুক পাহাড়ের উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২৫০০ ফুট।এখানে সূ্র্যাস্ত ও সূর্যোদয় প্রত্যক্ষের অভিজ্ঞতা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

শৈল প্রপাত: প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট এ ঝর্ণার কলকল শব্দ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।এটি জেলা সদর থেকে ৮কি.মি. দূরত্বে চিম্বুক সড়কে অবস্থিত।

প্রান্তিক লেক: প্রান্তিক লেক জেলার সদর উপজেলার হলুদিয়া গ্রামে জেলা শহর থেকে ১৪কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত। এ জলাধারের চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ।
লেকের উপর এ প্রজাতির বৃক্ষের আচ্ছাদন পর্যটকদের দেয় এক নিবিড় পরিবেশ।

মেঘলা পর্যটন: বান্দরবানে পর্যটন ভ্রমণ সংখ্যার দিক দিয়ে মেঘলা প্রথম স্থানে রয়েছে।
এখানে রয়েছে নয়নাভিরাম লেক,সাফারি পার্ক,চিড়িয়াখানা,ঝুলন্ত সেতু,ক্যাবল কার,প্যাডেল বোট,শিশু পার্ক এবং মিনি ট্রেন ভ্রমণের সুবিধা। পিকনিক স্পট হিসেবেও মেঘলা অনেক জনপ্রিয়।

নীলাচল: নীলাচল যার আরেক নাম টাইগার হিল।অনেকেই এ পাহাড়ের সৌন্দর্যের জন্য একে বাংলার দার্জিলিং বলে। পুরো বান্দরবান এ পাহাড় থেকে দেখা যায়।নীলাচলে সূর্যাস্ত দর্শন পর্যটকদের দিয়ে থাকে এক অনাবিল আনন্দ। নীলাচল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।

নীলগিরি: নীলগিরি জেলার থানচি উপজেলায় অবস্থিত। জেলা সদর থেকে ৪৬কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত একটি পর্যটন কেন্দ্র। এটি সেনাজোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
সর্পিল পথ,মেঘের সমতলে রাস্তা ও নিঝুম পাহাড় পর্যটকদের প্রচুর আনন্দ দেয়।

এ জেলা প্রকৃতির অসামান্য দান।বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তুলনা হয় না। এক অতুলনীয় সৌন্দর্যের অধিকারী এ বান্দরবান। এককথায় বান্দরবান হল রূপের পরী।

সবশেষে বলব, মানুষ বিনোদন চায়।কাজের ফাঁকে পরিবার পরিজন নিয়ে একটু ভিন্ন পরিবেশে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে ইচ্ছা প্রকাশ করে।আনন্দঘন মুহূর্তগুলোকে ফ্রেমে বন্দী করে রাখতে চায়।এজন্য প্রয়োজন  কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ। বান্দরবান জেলায় রয়েছে সে পরিবেশ। তাইতো এখানে বছরজুড়ে থাকে পর্যটকের স্রোত। সারা বছর শত শত মানুষ এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দর্শনে আসে।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত