বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২

বিবাহিত ব্যাচেলর : জান্নাতুল ইভা

একটানা কয়েক ঘন্টা ঝগড়াঝাঁটির পর আমার মনে হয়, দোষটা আসলে আমারই ছিল। কিন্তু ভাবটা এমন রাখতে হবে যেন সব দোষ ইফতিরই। ওই যেন নিজে থেকে এসে আমার রাগ ভাঙ্গায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখা যায় আমিই আগে গিয়ে ওর সাথে কথা বলে ফেলি। এগুলো আমার রোজকার অভ্যাস।

সেদিন রাতে মশারী টানানোর কথা ছিল ইফতির কিন্তু ভুল করে আমি মশারী টানিয়ে ফেলছিলাম। শুয়ে পরার পর মনে পড়লো আজকে তো মঙ্গলবার। শনি, রবি আর সোম তো আমার মশারী টানানোর কথা। বাকি তিনদিন আবার ইফতির জন্য বরাদ্দ। আর শুক্রবারে আমরা কেউই মশারী টানাই না। এটা অফ ডে হিসেবে ধরা হইছে।

ইফতি ওয়াশ রুমে যেতেই আমি তাড়াতাড়ি উঠে মশারী খুলে ফেললাম। সকালে আমার সাথে যে ঝগড়া করছে এটা তারই শাস্তি। নিজে টানিয়ে নিক। আমি কেন টানাবো! এমনিতেও তো আজকে আমার টানানোর কথা না।

ইফতি রুমে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বলল, আমাকে একটু বেরোতে হবে। বন্ধুর বাসায় আজকে ব্যাচেলর পার্টি আছে।

আমি বড় বড় চোখ করে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, ব্যাচেলর পার্টি মানে! কিসের ব্যাচেলর পার্টি? আর ব্যাচেলর পার্টিতে তোমার কী কাজ! তুমি তো আর ব্যাচেলর নও। তুমি একজন বিবাহিত পুরুষ।

ইফতি হেসে বলল, সামনে আফতাবের বিয়ে তাই আজকে ও ব্যাচেলর পার্টি রাখছে। আর আমি বিবাহিত! তোমার কোন দিক থেকে মনে হইলো আমি বিবাহিত! আমি যখন বন্ধুদের সাথে মেছে থাকতাম তখনও আমাকে এইভাবে সপ্তাহে দিন ভাগ করে মশারী টানাতে হতো। আর এখনও সেটাই করতে হয়। তাহলে বিবাহিত কেমনে হইলাম? লজিক ছাড়া কথাবার্তা বইলো না প্লিজ। তুমি আমায় বড়জোর এটা বলতে পারো যে, আমি হলাম সুখী বিবাহিত ব্যাচেলর। এমনিতেও আমার নিজেকে সেটাই মনে হয়।

একথা বলেই ইফতি পার্টি করতে চলে গেল। আমি অসহায়ের মতো আবারও মশারী টানিয়ে শুয়ে পড়লাম। শয়তানটাকে শায়েস্তা করতে গিয়ে এখন নিজেরই দুইবার করে মশারী টানানো লাগলো। কপাল গুনে বদমাশ বর হইছে একটা।

কিছুক্ষণ পরে কলিং বেল বেজে উঠলো। আমি দরজা খুলতেই দেখি ইফতি বত্রিশ দাঁত কপাটি বের করে হাসছে।

রাগি স্বরে বললাম, তুমি না পার্টিতে গেলা!

ইফতি হাসতে হাসতে ভেতরে ঢুকে বলল, মেয়ে মানুষের যে হাঁটুর নিচে বুদ্ধি সেটা আবারও প্রমান হলো। তুমি ইচ্ছা করে মশারী টানিয়েও আবার খুলে ফেলছিলা না আমাকে দিয়ে কামলা খাটানোর জন্য! এটা তারই প্রতিশোধ। কোনো পার্টিফার্টি নাই।

আমি অবাক দৃষ্টিতে ইফতির দিকে তাকিয়ে বললাম, তুমি বর নাকি বর্বর!

ইফতি হাসতে হাসতে বলল, নাহ আমি সুখী বিবাহিত ব্যাচেলর।


© 2022 - Deshbarta Magazine. All Rights Reserved.