রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০

বিশ্বশান্তি রক্ষায় রবীন্দ্রনাথ

অধ্যাপক নাসিমা হক

মানব জীবনের এক পরম আকাঙ্খা শান্তি । আমাদের প্রয়োজনেই এই রবীন্দ্র স্মরণ। জীবনজুড়ে সমস্ত শিল্প সৃষ্টির  মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, জীবনেরই একটা শিল্প আমাদের সকলের জীবনের। সৌন্দর্য আর সাধনায়, ভালোবাসায় আর সংগ্রামে, আসক্তি আর মুক্তিতে মিলিয়ে নিয়ে এই জীবনের মধ্যে  আধুনিক এক মানবতার আদর্শ খুঁজতে চেয়েছিলেন তিনি।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “গীত বিতান” -এর পূজা পর্যায়ের ৪১৭ সংখ্যক গানে তিনি লিখেছেনঃ

কামনা করি একান্তে

হউক বরষিত নিখিল বিশ্বে সুখ শান্ত ।

পাপ তাপ হিংসা শোক সাগরে সকল লোক,

সকল প্রাণী পায় কূল

সেই তব তাপিত স্বরণ অভয় চরণ প্রান্তে ।

বিশ্বশান্তি রক্ষায় রবীন্দ্রনাথের এই গানে আমরা তার আভাস পাই। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে  শান্তি নিকেতনের মন্দিরে সাপ্তাহিক উপাসনায় রবীন্দ্রনাথ বলেনঃ স্বার্থের বন্ধনে  জর্জর হয়ে রিপুর আঘাতে আহত হয়ে মরছে মানুষ, বাঁচাও তাকে ।

কবিগুরুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ হতাশার ঘেরাটোপে, সন্ত্রাসের রাজনীতির করাল গ্রাসে, শান্তির বাতাবরণ গেছে খসে।

বিশ্ব-সমাজ-রাষ্ট্রে অশান্তির মূল কারণ সম্পদের লালসা ও ক্ষমতার মোহ । রবীন্দ্রনাথ ধিক্কার  জানিয়েছেন  এসবে ।

জাপান বাহিনী যুদ্ধে যাবার আগে বুদ্ধ মন্দিরে বিজয় প্রার্থনা জানাতে গিয়ছিল বলে তিনি লিখেছিলেন “যুদ্ধ ভক্তি” নামে একটি কবিতা-যেখানে শেষ স্তবকে  তিনি লিখেছেন-

হিংসায় উষ্মায়  দারুণ অধীর ,

সিদ্ধির  বর চায় করুণা নিধির ।

ওরা তাই, স্পর্ধায় চলে বুদ্ধের মন্দির তলে ।।

সভ্যতার এক মর্মন্তদ ট্রাজেডি- যে বুদ্ধ অহিংসার বাণী প্রচার করেছেন-তাঁর কাছেই হিংসার জয় কামনা ।

আফ্রিকা কবিতা-

সভ্যের বর্বর লোভ যে শ্বেত নেকড়েরা নগ্ন করলো, আফ্রিকার ধূলি পঙ্কিল  করল কালো মানুষদের রক্তে অশ্রুতে মিশিয়ে । তবুও  রবীন্দ্রনাথ তাঁর শেষ ভাষণে “সভ্যতার সংকট” এ বলেছেন- ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ’। কেননা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির মূলে আছে এই মনুষ্য জাতিরই ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ-লালসা-আবার এও সত্য যে সেই অশান্তি নিরসনের জন্য প্রয়োজন সেই মানুষেরই কর্ম-সাধনার । এই মানষ অবশ্য শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ ।

শান্তির জন্য রবীন্দ্র বাণীতে তাই আমাদের বিশ্বাস অটুট রাখতেই হবে ; মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।

তাই আমাদের প্রত্যয় হোক- সকল অশুভের বিনাশ করে শুভ শান্তির অভ্যুদয়ের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করা এবং নিজেদের দেশ ও মানুষের জন্য নিবেদিত হওয়া।

জাগো নির্ভর ধামে,

জাগো সংগ্রাম সাজে ।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত