শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০

বেহাল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক : ১০ দিনের আগে চালু হচ্ছে না সেতু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর সেতুর ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামতে কাজ চলছে ঢিমেতালে। সড়ক বিভগের এক রকম অসহায় আত্মসমর্পণ। দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা বলছেন, সেতু মেরামতে কমপক্ষে সময় লাগবে ১০ দিন।

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তারা। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে যাত্রী সাধারণের চরম দুর্ভোগ ছাড়াও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এখানকার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। চালু মিল কলকারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে উৎপাদন ব্যাহত ছাড়াও বাড়ছে নানামুখী ক্ষতির পরিমাণ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন জানান, এই মহাসড়কে চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগবে। এর আগে তারা সমাধান দিতে পারছেন না।

তিনি জানান, বিকল্প হিসেবে ফেরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে একটি ফেরি ইতিমধ্যে রওনা দিয়েছে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে ফেরিটি এখানে যানবাহন পারাপার করতে পারবে। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শাহবাজপুরে তিতাস নদীর সেতু এলাকায় ফেরিতে যানবাহন ওঠার জন্য এপ্রোচ সড়ক এবং ঘাটও নেই। ফেরি চলাচলের জন্য কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সরেজমিন দেখা যায়, বিকল্প পথেও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে। সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের। শনিবারও সিলেট থেকে ঢাকা অভিমুখে চান্দুরা পর্যন্ত ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকে পড়া যানবাহনের মধ্যে ট্রাকের সংখ্যা বেশি। ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শক আ স ম আতিকুর রহমান জানান, তার এলাকাতেই ৭ কিলোমিটার যানজট রয়েছে। এরপর মাধবপুর ছাড়িয়ে সিলেটের পথে আরও অনেক দূর পর্যন্ত যানজট রয়েছে বলে জানান তিনি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে হেঁটেও অনেককে ছুটতে দেখা যায়। এছাড়া শাহবাজপুর সেতুর উত্তরপ্রান্তে সিলেট অভিমুখী অনেক ট্রাকও আটকা পড়েছে। এসব ট্রাকে থাকা আম ও কাঁঠাল পচে গলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সড়ক বিভাগ বিকল্প পথ হিসেবে চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-সিলেট এবং চট্টগ্রামের এবং সরাইল-নাসিরনগর হয়ে লাখাই এবং রতনপুর দিয়ে ঢাকা-সিলেট গন্তব্যের যানবাহন চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু বিকল্প ওই দুই পথ এড়িয়ে চান্দুরা আখাউড়া সড়ক দিয়েই চলছে ঢাকা-সিলেট এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বেশির ভাগ যানবাহন। ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক পাড়ি দিতেও সময় লেগে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টা। এ কারণে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে মানুষের।

শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর পুরাতন সেতুটির পাশাপাশি নতুন একটি সেতু নির্মাণাধীন। যার কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক বিভাগে কর্মকর্তারা। আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে জানান তারা। পুরাতন সেতুটি নির্মিত হয় ১৯৬৩ সালে। এই সেতুর মাঝখানে বেইলি সেতু বসিয়ে কোনো রকমে যান চলাচল স্বভাবিক রাখা হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। মাঝে-মধ্যেই বেইলি সেতুতে ওঠার সময় চাকা বসে গিয়ে যানবাহন আটকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগ সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সেতুর দুই পাশে ১৫ টনের অধিক ওজনের যানবাহন চলাচল নিষেধ করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। তবে সওজ’র এই নির্দেশনা না মেনে প্রতিনিয়ত ১৫ টনের অধিক যানবাহন সেতু দিয়ে চলাচল করে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন বিকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর থাকা পুরনো ও জরাজীর্ণ সেতুটির পূর্ব দিকের রেলিং ভেঙে সেতুর একাংশসহ নদীতে পড়ে যায়। এরপর থেকে সেতুটির ওপর দিয়ে ভারি এবং মাঝারি আকারের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করার পাশাপাশি দ্রুত বেইলি ব্রিজ সরবরাহ করার জন্য কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জরুরি চিঠি পাঠান। এতে বলা হয়, সেতুর স্ট্রাকচার ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় এর পঞ্চম স্পেনের ওপর ৩০ মিটারের দুটি বেইলি স্থাপন করা আছে। ঢাকা থেকে সিলেটপ্রান্ত অভিমুখে সেতুটির চতুর্থ স্পেনের পূর্ব পাশের ক্যান্টিলিভার অবস্থায় নির্মিত ফুটপাত রেলিংসহ ভেঙে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে বেইলি ব্রিজ পাওয়া গেছে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত