সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

‘ব্যাকবেঞ্চার’ থেকে সফল হয়ে ওঠার গল্প

জাহিদ সবুর। নামটা এখন বেশ পরিচিত প্রযুক্তি প্রেমিদের কাছে। বিশ্বসেরা ইঞ্জিনিয়ারদের তালিকায় তার নাম উঠেছে। গুগলের কোড বেইজে তিনি এক নম্বর ইঞ্জিনিয়ার। আপনি কী জানেন বাংলাদেশের এই ছাত্রটি একসময় ক্লাসে ব্যাকবেঞ্চার ছিলেন? ক্লাসে টেনেটুনে পাস করেছেন তিনি। শুধু তাই নয় রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্সই পাননি। আর এখন তিনি বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান গুগলের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (ডিরেক্টর) হয়েছেন। তার বেতন দুই কোটি টাকারও উপরে।

বিশ্বসেরা ইঞ্জিনিয়ারদের অন্যতম জাহিদ পড়াশোনা করেছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (এআইইউবি)। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে বাধ্য হয়ে ভর্তি হন সেখানে। তবে ভর্তি হওয়ার পর তাকে অনেক কটূ কথা শুনতে হয়েছে। মুদি দোকানে পড়াশোনা করছেন তিনি এমন কটূক্তিও হজম করতে হয়েছে। শুরুতে তার প্রযুক্তি সম্পর্কে তেমন একটা জ্ঞান ছিল না। তবে স্কুলে থাকতে তিনি বিজ্ঞান মেলায় বরাবরই সেরাদের তালিকায় থাকতেন। পড়াশোনায় তেমন ভালো ছিলেন না। টেনেটুনে পাশ করতেন। সেই জাহিদই এখন বিশ্ব মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন।

জানা গেছে, জাহিদ অথচ ১৬ বছর আগে রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। তবে স্বপ্ন ছিল তিনি ইঞ্জিনিয়ার হবেন। তাই ভর্তি হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এআইইউবিতে। তবে তার প্রযুক্তিগত জ্ঞান তেমন একটা ছিল না। স্বপ্নকে জয় করতে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করেন।

জাহিদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী। তবে জন্ম সৌদি আরবে। বাবা কিং ফয়সাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ছিলেন। আট বছর বয়সে সপরিবারে দেশে ফিরে আসেন জাহিদরা। ভর্তি হন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি হন। স্কুলের বিজ্ঞান মেলায় বরাবরই তিনি প্রথম হতেন। তবে ক্লাসে রোল থাকত নিচের দিকে। মুখস্থবিদ্যায় তিনি পারদর্শী ছিলেন না। ও লেভেলে মোটামুটি ভালো রেজাল্ট করলেও এ লেভেলে খুব খারাপ অবস্থা হয়। যার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। তবে তার স্বপ্ন ভেঙে যায়নি। নতুন উদ্যোমে এগিয়ে গেছেন। এআইইউবিতে ভর্তি হয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তিনি। জাহিদ ২০০৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানিটিতে। প্রথম কাজ শুরু করেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। গুগলের ব্যাকএন্ড সিস্টেম নিয়ে ছিল তার প্রথম প্রকল্প। একটা সময় গুগলের কোড বেইজে এক নম্বর ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যান। গত ২ মে পদোন্নতি পেয়ে ডিরেক্টর হয়ে গেছেন।

উল্লেখ্য, সারাবিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনটিতে এখন ফুলটাইম কর্মী আছেন লাখখানেকের মতো। এদের মধ্যে আড়াইশ’ জনের মতো আছেন প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার। জাহিদ এদেরই একজন। একজন গুগল প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ারের বেতন গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসেবে জাহিদ দুই কোটি টাকার উপরে বেতন পাচ্ছেন।

জাহিদ প্রমাণ করলেন, পরিশ্রম করে নিজেই নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হয়।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত