বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

ভারী বর্ষণ আর ঢলে তাহিরপুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আবির হাসান-মানিক, তাহিরপুর থেকে
হাওর বেষ্টিত তাহিরপুরে টানা ভারী বর্ষণ সেই সাথে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুরের ৭টি ইউনিয়নের সহিত উপজেলা সদরের স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলার সহিত জেলা সদরের যানচলাচলের সংযোগ ব্যবস্থা। তলিয়ে গেছে অনেক এলাকার ফসলি জমি।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত ৩ দিনের প্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বাদাঘাট-তাহিরপুর সড়ক, একই সাথে আনোয়ারপুর ও শক্তিয়ারখলা সড়ক পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর যান চলাচল। চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে এ সমস্ত সড়কে যাতায়াতকারী জনসাধারণ।
উপজেলার সীমান্ত সড়ক বারেকটিলা থেকে বাগলী (বীরেন্দ্রনগর) সড়কের কয়েকটি স্থানে স্থানে ব্রিজের নিচে প্রচুর স্রোত থাকায় সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট ছোট নৌকা দ্বারা জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এ অঞ্চলের জনসাধারণের।  তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তা, আধাপাকা, পাকা রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
হাওর দুর্গম তাহিরপুরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিঘ্নিত হচ্ছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম।
যাদুকাটা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে বন্যা হওয়ার আশংকাও দেখা দিয়েছে, হুমকির সম্মুখীন রয়েছে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো।
কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ। এতে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে হতাশা ও আশংকা কাজ করছে।
উপজেলার বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল আহমদ সবুজ, শহিদুল ইসলাম, জোবায়ের আহমদে, বাগলী বাজারের ব্যবসায়ী এমরান আহমেদ জানান,  কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তাহিরপুর উপজেলার যান চলাচলের একমাত্র সড়ক তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জেলা সদরে নানা প্রয়োজনে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী গত ৩-৪ দিন যাবত অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, বিঘ্নিত হচ্ছে অত্র অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা।
পেশাদার মোটরসাইকেল চালক জাকির হোসেন, মিষ্টু মিয়া জানায়, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাবার কারনে তাদের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার, ছেলে-মেয়ে নিয়ে বিপাকে পড়েছে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত