রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

ভাসমান লাশের গল্প || আইভি হোসেন

অথচ ঘুম চোখে দেখে যাই আমি স্বপ্ন।
দেখি গাঁয়ের লোকজনের সামনে
আমি নদীতে ঝাপ দিলাম।
পানিতে ডুবে যখন মরে যাচ্ছি একটু একটু করে,
সবাই দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য দেখায় ব্যস্ত,
দিক দিগন্ত এক করে ভেসে যাচ্ছি তো যাচ্ছিই।
ভাসতে ভাসতে আচমকা ধাক্কা খেলাম

সারিবদ্ধ একদল পানাফুলের সাথে।
সেখান থেকে একটি পানাফুল আমায় জিঙ্গাসা করলো,
কে তুমি? এখানে কেনো?

প্রশ্নের উত্তর কী দিবো পেলাম নাহ খুঁজে; সত্যি কে আমি?
আমি কি পানাফুলের হারিয়ে যাওয়া সন্তান!
যে আজ এতো বছর পর ভাসতে ভাসতে

তাদের সংসারে আমার কপাল ঠেকালাম?
তখন খুব তীরে ছুটে আসতে ইচ্ছে করলো!
আমার বাড়ির দরজা দিয়ে প্রবেশ করে, সোজা ঘরের কোণে

আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজের মুখ দেখতে ইচ্ছে করলো,
গাঁয়ের সবচেয়ে বড় চিত্রশিল্পকে নিজের জমানো

সকল টাকার বিনিময়ে হলেও আমার এই মুখখানা,
যেনো একখন্ড কাগজে এঁকে দেয় সেই আকুতি করতে ইচ্ছে করলো।

আমার শরীরের গন্ধে যতজন হারিয়েছে নিজেকে,

ভাসিয়ে দিতে চেয়ে আমার মাঝে তাদের মুখখানা

র্স্পশ করতে বড্ড বেশী ইচ্ছে করলো!
এক, দুই,  তিন করে করে মাটির ঘরের দেয়ালে

যে দাগ দিয়ে দিয়ে  প্রেমের বছর গুণা শিখিয়েছে,

গাঁয়ের পথে সঙ্গী হয়েছে যে,
ধুলির ছাপে যে জীবনের মানচিত্র এঁকে দিয়েছে,
সে রাখালকে খুব দেখতে ইচ্ছে করলো।

চলে যাওয়া দিনের দুঃখগুলোর হাতে হাত ধরে খুব কাঁদতে ইচ্ছে করলো!
দুঃখ, সুখের এক দিগন্তবিস্তৃত মাঠে ছ্রোট ছ্রোট পায়ে

কোন এক খোকন সোনার হাতে হাত রেখে, ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করলো,
নিজেকে আবার একটি বার মানুষ ভাবতে ইচ্ছে করলো।
কিন্তু! ততক্ষণে এই আমি তো ভাসমান এক পানাফুল, এক লাশ!


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত