সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

Advertisement

ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধার ঘর পেয়েছেন ডাক্তার, শিক্ষক, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী

Advertisement

ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মাণ করা ভবনে বরাদ্দ পেয়েছেন ধনী ও সচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা। মাসে ৮০ হাজার টাকার বেশি আয় করেন এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধাও ৫০০ বর্গফুট আয়তনের এসব পাকা ঘর নিয়েছেন নিজেদের অসচ্ছল ও ভূমিহীন দেখিয়ে। ভবন পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার, শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও বেসরকারি চাকরিজীবীরাও।

অথচ রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা না থাকায় ‘বীর নিবাস’ নামের এসব ভবন পাচ্ছেন না প্রকৃত অর্থে ভূমিহীন ও অসচ্ছল অনেক মুক্তিযোদ্ধা।

‘ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প’-এর আওতায় ২০১২ থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের ৪৮৪টি উপজেলায় ২ হাজার ৯৬২টি আবাসন ভবন নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ১০টি উপজেলায় ৩০০টি ভবন বরাদ্দ পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর জরিপ করে প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন করেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

তাতে দেখা গেছে, ৩০০ ভবনের মধ্যে ৩৫টি ভবন বরাদ্দ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক আয় ৪০ হাজার টাকারও বেশি। এর মধ্যে তিনটি ভবন বরাদ্দ পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বছরে আয় ৯ লাখ থেকে ১০ লাখের ঘরে। চারটি ভবন বরাদ্দ পেয়েছেন, যাদের বছরে আয় ৮ লাখ থেকে ৯ লাখের মধ্যে। ৭ লাখ থেকে ৮ লাখের মধ্যে আয় এমন মুক্তিযোদ্ধারা পেয়েছেন পাঁচটি ভবন, বছরে ৬ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় থাকা মুক্তিযোদ্ধারা পেয়েছেন ৯টি, ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা আয়ধারী মুক্তিযোদ্ধারা পেয়েছেন ১৪টি, ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা আয়ের মুক্তিযোদ্ধারা পেয়েছেন ১৬টি ভবন। বাকিদের আয় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ব্যক্তি নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে কমিটি করা হয়েছে, এখানে মন্ত্রণালয়ের কোনো হাত নেই। তবে আমি যাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি, সেসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিয়েছি। বরাদ্দে অনিয়মের কারণে ২২ জনের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।’

Advertisement


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত