মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০

ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় প্রবাসী শ্রমিকরা

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বিদেশি শ্রমিক ছাঁটাইও চলছে কিছুদিন ধরে। এ পরিস্থিতির মধ্যে চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বব্যাপী হানা দেয় করোনাভাইরাস। এর প্রভাবে বিভিন্ন দেশে একটা পর্যায়ে শুরু হয়েছে লকডাউন ও কারফিউ।

এতে সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় থমকে গেছে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জীবন। অর্ধ মাসেরও বেশি সময় ঘরবন্দি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত লাখ লাখ শ্রমিক।

কয়েকটি দেশের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ অবস্থায় নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের বড় একটি অংশ খাদ্যসংকটে মানবেতর দিন পার করছেন। কেউ খেয়ে না খেয়ে পার করছে দিন।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় এ খাত থেকে আয় ১২ শতাংশ কমে গেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সরকারের জনশক্তি রপ্তানিকারক ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) হিসাবে ১৯৭৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ১ কোটি ২৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে মৃত ও কতজন দেশে ফিরে এসেছেন তার পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয়, এক কোটি শ্রমিক এখনো বিদেশে কর্মরত। তাদের বাইরে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অভিবাসী হিসেবে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি।  

করোনাসংকট থেকে বাঁচতে কাতার, কুয়েত ও লেবানন সরকার তাদের দেশে অবস্থানরত অবৈধ প্রবাসী শ্রমিকদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় দেশে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে।

তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা কেউই দেশ ছাড়তে পারছেন না। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকও রয়েছেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন অবৈধ থাকায় এসব শ্রমিকের হাতে সঞ্চয় নেই। এখন অবরুদ্ধ থাকায় হাত শূন্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দোকান, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য জরুরি সেবার মূল্য পরিশোধ করা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কয়েকজন প্রবাসী সাংবাদিক জানান, প্রায় সব দেশেই বাংলাদেশিরা করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবে চার ও কাতারে তিনজন মারা গেছেন। ইউরোপের দেশ ইতালি ও স্পেনে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

দেশগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দুস্থ শ্রমিকদের ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল হওয়ায় তাদের জন্য সরকারি প্রণোদনার দাবি উঠেছে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলো শ্রমিকদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত