সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

মা-বাবা দুজনই কর্মজীবী হলে যে সচেতনতা প্রয়োজন

বাবা-মা সন্তানের জীবনের প্রথম ও সব থেকে বড় শিক্ষক। সন্তানকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাবা-মা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। একবিংশ শতাব্দির এই যুগে এসে বাবা-মা দুজনই যখন কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত সময় পার করছেন তখন অভিভাবক ও সন্তানের সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে। এ ব্যাপারে সচেতন থাকলে অনেক সমস্যা এড়ানো যাবে।

কাজ কিভাবে সন্তান ও বাবা-মার সম্পর্ককে প্রভাবিত করে?
বর্তমান সময়ে একক পরিবারের সংখ্যা দিনকে দিন হু হু করে বেড়ে চলেছে। কর্মজীবী বাবা-মা কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সময় তার সন্তানকে রেখে যাওয়ার জন্য এমন কেউকে পাচ্ছে না যে সন্তানের দেখাশুনা করতে পারে পরম যত্নে। ফলে সন্তান থাকছে একাকী অথবা অন্য কারো কাছে; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজের লোকের কাছে। ফলে সে হয়ে উঠছে একঘেয়ে কিংবা পা বাড়াচ্ছে কোন ভুল পথে। এ নিয়ে সচেতন থাকুন।

মানসিক প্রভাব
কাজের সুবাদে বাবা-মাকে প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। একক পরিবারের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতিতে সন্তানকে দেখাশোনার কেউ থাকে না। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে বেবিসিটার বা ডে-কেয়ারের সুযোগ ততটা না থাকায় বাবা-মাকে বাধ্য হয়ে অদক্ষ গৃহকর্মীর কাছে সন্তান রেখে যেতে হয়। আর দু’একজন সাথে নিয়ে কর্মক্ষেত্রে গেলেও দেখা যায় মাদুর পেতে তার চেয়ারের কাছে ফেলে রেখেছে বাচ্চাকে, কাজের চাপে ঠিকমত খাওয়ানোর সময় পাচ্ছে না, পারছে না সঠিক পরিচর্যা করতে। ইচ্ছা ও সামর্থ্য থাকলেও বাচ্চার সাথে একান্ত সময় দিতে পারছেন না শিশুর এমন বেড়ে ওঠা তার মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার শিশুর বেড়ে উঠায় ঠিক মত খেয়াল রাখছেন তো?

আচরণগত পরিবর্তন
বাচ্চারা যখন ডেকেয়ার বা বেবিসিটারের কাছে থাকে অথবা তাদের কাছ থেকে চলে এসে একাকী থাকে তখন তারা অস্থিরতায় ভুগে, তাদের মেজাজ খিটখিটে হয়। বাবা-মা যেহেতু সন্তানকে সময় দিতে পারে না, তাদের এমন আচরণ আস্তে আস্তে আরও রূঢ় ও আক্রমণাত্নক হয়।

যেতে পারে খারাপ পথে
একাকীত্বতা ঘোচাতে সে আশেপাশের অপরিচিত বাচ্চাদের সাথে মিশতে শুরু করতে পারে। বাচ্চাদের সাথে মেলামেশার সময় পরিচয় হতে পারে কিছু খারাপ মানুষের সাথে, যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আপনার সন্তান পা বাড়াতে পারে খারাপ পথে। যেকোন খারাপ কাজে জড়িয়ে যেতে পারে আপনার সন্তান। খোঁজ নিয়ে দেখুন আপনার সন্তান এমন কিছুতে আসক্ত নাতো?

মাতাপিতার সাথে দূরত্ব
প্রতিযোগিতার এই বাজারে এমনিতেই কর্মজীবীরা ছুটি পায় না, যাও দু’একদিন পায় বাড়ির কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। আবার অনেককে ছুটির দিনেও অফিসের কাজ করতে হয়। বাচ্চাদের একেবারে সময় দেওয়া হয়ে ওঠে না। হয়ে ওঠে না সন্তানের সাথে একান্ত গল্প করা, ঘুরতে যাওয়া। দিনকে দিন সন্তান বড় হতে থাকে আর বাবা-মার সাথে তাদের দূরত্ব বাড়তে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত