বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মুজিববর্ষে পদোন্নতির সংবাদ : সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের মাঝে উৎসবের আমেজ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষে সকল শুন্য পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসাবে নব সৃষ্ট সিনিয়র শিক্ষকের শুন্য পদে পদোন্নতি পেতে যাচ্ছে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ সহস্রাধিক সহকারী শিক্ষক এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রমার্জন নিয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে পদোন্নতি পেতে যাচ্ছেন প্রায় চার শতাধিক সহকারী প্রধান শিক্ষক। এই সংবাদে শিক্ষকগণের মাঝে উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে।

উল্লেখ্য যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকার পদটি প্রায় ব্লক পদ। প্রায় ৯৮% সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা ২৮/৩০ বছর চাকরি করে কোন পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে চলে যান। জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১২ সালের ১৫ মে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার ৫০০ সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদমর্যাদার ঘোষণা প্রদান করেন। তাঁরই নির্দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা পদের মোট পদের ৫০% পদকে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদায় (৯ম গ্রেডে) সিনিয়র শিক্ষক পদে উন্নীত করেন।নতুন এই পদে পদোন্নতি দেয়া সম্ভব হলে সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা পদের ব্লক কিছুটা ভাঙ্গবে বলে মনে করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

পদোন্নতির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে সহকারী শিক্ষকদের সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া হবে। প্রথম ধাপে সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষককে এ পদে পদোন্নতি দেয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের সেকেন্ডারী স্কুলগুলোতে সিনিয়র শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোনো পদ ছিল না। আমার ‘সিনিয়র শিক্ষক’ নামে জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেডে একটি নতুন পদ সৃষ্টি করেছি।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের নব সৃষ্ট ‘সিনিয়র শিক্ষক’ পদে পদোন্নতি প্রদানের নিমিত্ত বিভিন্ন রায় ও প্রচলিত জ্যেষ্ঠতার বিধিবিধানের আলোকে জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

উল্লেখ্য যে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকাদের জ্যেষ্ঠতা নিয়ে ১০ম গ্রেডে যোগদান থেকে জ্যেষ্ঠতা চেয়ে হাই কোর্টে প্রথম রীট পিটিশন হয় ২০১৫ সালে, যার নম্বর ৫৬৬৭/২০১৫। মহামান্য আদালত পিটিশনারদের পক্ষে রায় প্রয়াদান করেন। উক্ত মামলায় মহামান্য হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে যে, “It appears from the record that the petitioners are serving as Assistant teacher in differnet subjects in different High School across the country under the Depeertment of secondary and higher Education governed by Ministry of Education. Admittedly the first gradation list of petitioner and others teachers of the government secondary high school was prepared and publish in october 1996 by the Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics (BANBEIS) of the Ministry of Education where the seniority of petitioners and the others was fixed on the basis of their respective date of joining in the srevice. In the case of the same joining date the seniorty inter se was determined on the basis of age and the personnel who were older in age was given seniority over the younger. the said gradation list was acted upon as several promotion were made on the basis of this said gradation list. all the petitioners have been placed properly in their entiteled positon according their respective date of joining”.

মহামান্য হাইকোর্টের রায়ে আরো বলা হয়েছে, It transpires from the record that all the petitioners were appointd after 1991 and it was clearly mentioned in their respective appointment letters that their appointment would be made effective from the date of joining in service and the petitioners have been regularized and conformed from the date of joining in service vide different orders made time to time.

উক্ত মামলার রায়ের চুরান্ত পর্যায়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ যে পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে সেই পদের নিয়োগবিধির শর্ত মোতাবেক পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন, সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ বিধিমালা ১৯৯১ অনুসারে নয়। রায়ে বলা হয়, “The respondents are directed to consider promotion of the petitioners in the post of Assistant District education officer, Assistant Headmaster & Assistant Headmistress pursuant to Provisions of `Bangladesh Civil Service Recruitments Rules,1981’ as amendment vide SRO No. Ain/2010-05/030.0174.01.00.006.2010 dated 18.01.2010 notified in the official gezette dated 18.01.2010।

পরর্বর্তীতে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল হলে আপীলের রায় হয়। রায়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখেন। করেন। আপীল বিভাগের সিভিল পিটিশন ফর লীভ টু আপীল নং 2037/2016 এ বলা হয় যে, “In view of the above, this petition can be disposed of by modifying the ordering portion of the judgement by stating that the impugned rule i.e. rule 4(1)(kha) of the Rules 2011 shal not be applicable in the case of the writ petitioners and all others teachers similarly placed or sisuated. Accordingly it is declared that rule 4(1)(kha) of the Rules 2011 shal not be applicable to the writ petitioners and all others teachers similarly sisuated and placed. The impung judgement stands modified accordingly. With the above modification this petition is disposed of.”

Bangladesh Civil Service Recruitment Rules 1981 এর সর্বশেষ সংশোধনী ২০১০ অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য শর্ত হলো, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ (সাত) বছরের চাকরীর অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষায় ডিপ্লোমা বা বি. এড ডিগ্রী বা বি.পি.এড ডিগ্রি। সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য জ্যেষ্ঠতার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে মতামত চান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ০৫.০০.০০০০.১৭১.০৪.০১৮.১৯.১৪৮ তারিখঃ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে ১০ম গ্রেডে যোগদানের তারিখ থেকে জ্যেষ্ঠতা গণনা করার মতামত প্রদান করেন।

উপরোক্ত রায় ও মতামতের ভিত্তিতে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারি (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা, ২০১১ এর অনুচ্ছেদ ৪ এর উপানুচ্ছেদ ২ এবং অনুচ্ছেদ ৭ এর উপানুচ্ছেদ ৩ ও ৪ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রণয়ন করে উক্ত বিধামালার অনুচ্ছেদ ৯ অনুসারে ২৭-১০-২০১৯ তারিখে মাউশি নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। এই মতামত ও জ্যেষ্ঠতার তালিকা চ্যালেঞ্জ করে কৃষি শিক্ষকগণ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল রায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রদত্ত মতামত বহাল রাখেন এবং মাউশি প্রণীত জ্যাষ্ঠতার তালিকা সঠিক ও আইন সম্মত বলে রায় দেন। মামলা নং AT-299/2019 এর 13.10.2020 খ্রিঃ রায়ে বলা হয়, “as the authority before preparing the gradation list dated 27-10-2019 took inter-ministerial decisions/ opinions and fixed salary/ grade of applicant-teachers and placing proper persons in proper places, the decisions of authority in this regard being legal and proper, no interference is called for against the office order dated 08-09-2019 issued by the opposite party no.3, the secretary Ministry of public Administration”.

এইসব মামলার রায় ও বিধিবিধানের আলোকে জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ২৮/০১/২০২১ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে গত ১০/০২/২০২১ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডিপিসি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। শীঘ্রই একটি পদোন্নতি হচ্ছে এই সংবাদে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

মুজিববর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মানিত করার এই উদ্যোগের ফলে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষক সমাজ খুবই খুশি। এই পদোন্নতির ফলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন শিক্ষক সমাজ। এতে ঈর্ষান্বিত হিয়ে সরকার বিরোধী মনোভাবের কিছু শিক্ষক/কর্মকর্তা ও কুচক্রি মহল সরকারের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও অখ্যাত অনলাইন পোর্টালে পদোন্নতি আটকে দেওয়ার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের অন্যতম ইসলামী ছাত্র শিবিরের খুলনা জেলার সাবেক সভাপতি ও সাঈদী মুক্তি আন্দোলনের নেতা খানজাহান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওমর ফারুক, বিএনপি আমলে পুলিশের এস আই পদে চাকরি পাওয়া এবং পরবর্তীতে বর্তমান সরকার কর্তৃক চাকরিচ্যুত হয়ে সরকারি হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক রেজওয়ানুল কবির রিজবি ও ভোলার মোঃ মোফাজ্জল হোসেন গং। করোনার ছুটিতে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কর্মস্থল ত্যাগ করে ঢাকায় অবস্থান করে শিক্ষকগণের কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি বানচালে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন তারা। যে বা যারা পদোন্নতি আটকে দেওয়ার জন্য ফেইবুক ও অনলাইন পোর্টালে অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন পদোন্নতির আশায় তীর্থের কাকের মত অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক সমাজ।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত