সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০

মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেলেন ট্রাকচালক হুমায়ুন

আট বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী হত্যা মামলায় ২০০৪ সালে গ্রেপ্তার হন কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভার বাসিন্দা ট্রাকচালক হুমায়ুন কবির। দুই বছর পর বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পান তিনি। সেই থেকে তিনি কনডেম সেলে। পরে হাইকোর্টে জেল আপিলেও তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়। তবে দীর্ঘ ১৪ বছর অপেক্ষার পর মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে খালাস পেয়েছেন হুমায়ুন কবির।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হুমায়ুনের পক্ষে আদালতে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এবিএম বায়েজিদ সাংবাদিকদের বলেন, খালাস হওয়ায় তার মুক্তি পেতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ৩০ জুন লাকসামের কনকশ্রী গ্রামের সাকেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সকাল সোয়া ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু স্কুল ছুটি হওয়ার পরও বাড়ি ফিরে না আসায় তার খোঁজ করেন অভিভাবকরা। জানতে পারেন শিশুটি স্কুলে যায়নি। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি ও সম্ভাব্য স্থানে তাকে খুঁজে না পেয়ে ওই দিনই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির চাচা মো. জসীম উদ্দিন।

এ প্রসঙ্গে একই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির প্রত্যক্ষদর্শী দুই শিক্ষার্থীর সূত্রে জানা যায়, স্কুলে যাওয়ার পথে মাথাব্যথায় শিশুটিকে তারা সাকেরা গ্রামের মাস্টার বাড়ির পাশে কালভার্টে শুয়ে পড়তে দেখেন। এ সময় আরও পাঁচ-ছয়জন লোকও ছিল সেখানে। তখন হুমায়ুন কবির এসে সবাইকে চলে যেতে বলেন। প্রত্যক্ষদর্শী দুই শিক্ষার্থী চলে যাওয়ার সময় শিশুটিকে বাড়ি যেতে বললে হুমায়ুন কবির জানান, তিনি শিশুটির মামা; শিশুটিকে তিনিই বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। কিন্তু হুমায়ুন কবির তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেননি।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত