রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১

মোগলদের খাবার

বসন্তকালের কোন এক সন্ধ্যাবেলা।
আসফ খাঁ খুব ব্যস্ত। এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছে। তাঁর ব্যস্ততার যুক্তি আছে। তাঁর বাড়িতে আজ একজনের নিমন্ত্রণ আছে। যার নিমন্ত্রণ, তিনি যেই সেই কেউ নন; স্বয়ং দিল্লী অধিপতি। ঐ সন্ধ্যায় আসফ খাঁ আর তার বউ মহান বাদশা শাজাহানকে চাট্টি ভাত খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছিল।
মেঝেতে ঝলমল করছে সিল্কি রূপালি সোনালি জরির কাজ করা কার্পেট, চতুর্দিকে মৌ মৌ করছে সুগন্ধী আতরের বাস। যে কক্ষে সম্রাট বসবেন, তার ঠিক কেন্দ্রে মিহি মসলিনের কাজ করা টেবল ক্লথ আর চারধারে নানাবিধ দামি কুশন।
এরপর সোনামোতির হার গলায় ঝুলিয়ে রুমে ঢুকলেন মহান মোগল সম্রাট। কুশনে আরাম করে বসে হাত ধুয়ে নিলেন অত্যাধিক কম বয়েসী ও ততোধিক সুন্দরী দাসীদের এগিয়ে দেওয়া পানিপাত্রে।
শুরু হল খাবারের পাত্রের আগমন, একের পর এক। খাবার আনছিল ঝলমলে রঙদার সিল্কের পাজামা আর অতিস্বচ্ছ মসলিনের কুর্তা পরিহিত খোজার দল। তারা হাঁটু গেড়ে বসে থাকা সুন্দরীদের হাতে সোনার বাটি চালান করছিল যেন মেয়েগুলো সম্রাটের পাত্রে ঢেলে দিতে পারে।
সম্রাট পছন্দ করলেন সবুজ ও গোলাপি রঙের ভাত।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, মোগল সম্রাটরা বরাবরই ভোজনরসিক ছিলেন। পাকশালায় বিভিন্ন দেশের খাবার রান্না করা হতো। প্রতিদিন বহু লোভনীয় খাবার রান্না করা হতো। মোগলরা দস্তরখানা বিছিয়ে খেতেন। দস্তরখানায় মাংস ছিল অপরিহার্য। কালিয়া ও কোরমা ছিল জনপ্রিয় খাবার।
সম্রাট হেরেমে আহার করতেন। বিষ মেশানো আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য খাবার পরীক্ষা করিয়ে খেতেন। সম্রাটরা বিশেষ ধরনের একটি প্লেটে খাবার খেতেন। খাদ্যে বিষ থাকলে প্লেটটি নীল রং ধারণ করত। প্রতিবেলার সাধারণ আহারে থাকত কমপক্ষে ১০০ পদ। রাজকীয় ভোজে পদ থাকত কয়েকশ। একবেলায় সত্তর পদের পোলাও খেতেন কোন কোন সম্রাট!
ঐতিহাসিক আবুল ফজলের মতে, হেরেমের মহিলাদের সকাল থেকে খাবার গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হতো। রাত অবধি চলত খাবার গ্রহণের পালা।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত