বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

যুবককে কুপিয়ে হত্যার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফ নামের এক যুবককে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, ‘সবাই এই ঘটনায় মর্মাহত। সমাজটা কোথায় যাচ্ছে? প্রকাশ্যে রাস্তায় মানুষটাকে মারল। ভিডিও করল, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসল না।’

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার মধ্যে ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না বা কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে আদালতকে জানাতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশারকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফ (২২) কে প্রকাশ্যে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পাশে থাকা অনেকে এ তাণ্ডব দেখলেও কেউ সন্ত্রাসীদের ঠেকানোর চেষ্টা করেনি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস আগে রিফাত শরীফের সঙ্গে আয়শা আক্তার মিন্নি নামের ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পৌরসভার ক্রোক এলাকার নয়ন বন্ড নামে এক যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। ওই যুবক নিজেকে তরুণীর সাবেক স্বামী এবং প্রেমিক হিসেবে পরিচয় দিতে থাকে। এ নিয়ে রিফাতের সঙ্গে নয়নের বচসা হয়। এর জের ধরে বুধবার বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দেশি অস্ত্রসহ সদলবলে ওতপেতে থাকে নয়ন। রিফাত ও তার স্ত্রী মিন্নি সকালে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা রামদা নিয়ে রিফাতের ওপর চড়াও হয়। এ সময় মিন্নি তাদের বাধা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তার বাধা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা রিফাতের সারা শরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

এ হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিন্দার ঝড় ওঠে। ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে কোনো রকমে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালান রিফাত। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। দুই যুবক রামদা দিয়ে তার সারাশরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মিন্নি এ সময় একবার নয়নকে, আরেকবার নয়নের সহযোগী রিফাত ফরাজীকে আটকানোর চেষ্টা করেন। তিনি ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’, ‘না’ ‘না’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু ততক্ষণে রামদার কোপে গুরুতর জখম হন রিফাত।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত