মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

যৌবনের প্রথম প্রেম || ফরিদা ইয়াসমিন সুমি

অনেকটা কাল ‘ন হন্যতে’র ঘোরে কেটেছে

‘মৈত্রেয়ী দেবী’ ভর করেছিল প্রবলভাবে,

প্রতিটি দিন একটু একটু করে

আরও বেশিবেশি ‘রু’ হয়ে ওঠার চেষ্টা ছিল!

বোধ হচ্ছিল অনেকটাই হতে পারছি

আর সেই সুবাদে অহংকারে মাতাল হচ্ছি,

অবয়বটাই কেবল আমার,

ভেতরে পুরোটাই দেবী,

আর কিছু নয় আমি শুধু

‘মৈত্রেয়ী দেবী’ হতে চেয়েছিলাম,

তেমনই প্রগাঢ়, রহস্যময়, আবেদনময়ী!

পড়ার ঘর, ছাদ, দোতলার বারান্দায় স্বচ্ছন্দ বিচরণ,

বুক ধুকপুক নিয়ে আরাম-কেদারায় ঘুমের ভান,

সাহিত্য শেখার উসিলায় যখন তখন নিরিবিলি হওয়া…

আড়ালে মিলিত হতে, ছোঁয়া পেতে

প্রথম যৌবনের প্রথম প্রেমিক ‘মির্চা’কেই খুঁজে ফিরেছি!

টেবিলের নীচে মির্চার পায়ের পাতা

ক্রমশ উঠে যেতো আমার গোড়ালি থেকে হাঁটু অবধি,

আবার হাঁটু থেকে গোড়ালি…

স্পর্শসুখের মদিরতায় চোখ বুজে আসতো

রিমঝিম সুর বেজে উঠতো তানপুরায়!

পুরু চশমার চোখ আর ধবধবে ফর্সা সরু আঙুলের চেয়ে

বেশি আবেদনময় কিছুই ছিল না আমার কাছে,

আমি শুধু মির্চার দেবী হতে চেয়েছিলাম!

তেমনই গভীর, রহস্যঘেরা, আবেদনময়ী!

‘এ যে বড্ড পাপ! এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত নেই! নরকেও নেই তাই ঠাঁই!’

‘কোথায় ছুঁয়েছে তোকে, রু?’

‘কোথায় স্পর্শ করেছে, মির্চা?’

হাতে? কপালে? চিবুকে? কপোলে?

প্রশ্নে জর্জরিত অন্তরাত্মা কেঁপে বলে…

‘ও আমার আত্মা ছুঁয়েছে’ ‘সমস্ত সত্তা ছুঁয়েছে’

‘ভালোবেসে ও আমার স-ব ছুঁয়েছে!’

পাপিষ্ঠ, নরকবাসী হবো জেনেও

আজও প্রথম যৌবনের প্রথম প্রেমিক

‘মির্চা এলিয়াদ’র ‘মৈত্রেয়ী’ হতে চাই…

তেমনই গাঢ়, রহস্যভরা, আবেদনময়ী!


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত