শনিবার, ৩০ মে ২০২০

রহমতের দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে দ্রুত

মাওলানা এম.এ.করিম ইবনে মছব্বির

মাহে রমজানের দ্বিতীয় দিন আজ। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এ মাসে সব পাপ, অন্যায়, অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। মহান আল্লাহই পারেন রহমতের অক্সিজেন দিয়ে বিশ্ব মানবকে রক্ষা করতে। আল্লাহ ক্ষমাশীল। মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন যে,”ওয়া তাছিমু বি, হাবলিল্লাহি, জামিয়ান ওয়ালা তাফাররাক্কু।” অর্থ: তোমরা আল্লাহর রশিকে শক্ত করে, মজবুত কর আঁকড়ে ধর।”
করোনা ভাইরাসের কারণে কোরআন নাজিলের মাস এই রমজানে মসজিদে হাফেজরা কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে খতমে তারাবীহর নামাজ পড়াতে পারছেন না। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন মুসল্লীরা। করোনাভাইরাস ছোঁয়াছে থেকে রক্ষার জন্যই এ ব্যবস্থা।
বর্তমান বিশ্বে আমাদের মুসলিম উম্মাহর হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানির ফলে আল্লাহর গজব বিপরীতমূখী হয়ে গেছে। হ্যান্ডশ্যাক বা করর্মদনের দোয়া ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম।
বুক মোলাক্বাতের সময় পড়তে হয় আল্লাহুম্মাজিদ মহব্বতি লিল্লাহি ওয়া রাসুলিহি। এসব আমল বেশিরভাগ মুসলিমদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে। জায়গা করে নিয়েছে হায়! হ্যালো।
জানাজার নামাজ ফরজে কেফায়া। অথচ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের সেই শেষ বিদায়ের নামাজেও আত্নীয়, স্বজন, পাড়া, প্রতিবেশী কেউ অংশ গ্রহন করতে পারছেনা। এসব নিয়ামত থেকে আজ আমরা বঞ্চিত। আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন যে, “তোমাদের আগেও আমি আল্লাহ বহু মানব গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যখন তারা সীমা অতিক্রম করেছিল।”(সুরা: ইউনুস, আয়াত-১৩)।
তাই সকল মুসলমানকে রমজান মাসের ইবাদতের মোক্ষম সময়কে কাজে লাগাতে হবে। পাপ কাজের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা, ইস্তিগফারের মাধ্যমে মানবজাতির জন্য প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহপাক যেন আমাদের আগের অবস্থা ফিরিয়ে দেন। রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের। আজ দ্বিতীয় দিন চলে যাচ্ছে। আমরা যেন কোন ভাবেই আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত না হই। মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল। তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি তাঁর বান্দাদের ফিরিয়ে দেন না। আসুন আমরা অতীত অপরাধের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা চাই। এই রহমত, নাজাত ও মাগফিরাতের মাস যেন হেলায় হারিয়ে না ফেলি।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত