মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাহাতের ‘বলতে এলাম ভালোবাসি’ || সবল গদ্যসত্তার ইশারাবাহক

রাহাত রাব্বানী তরুণ কবি। জন্ম ১৯৯৮ সালের ০৪ অক্টোবর। তৃতীয় শ্রেণিতে থাকাকালীন ছড়া দিয়ে সাহিত্যচর্চার শুরু। ২০১৭ সালে প্রকাশ পায় তার প্রথম কবিতাগ্রন্থ ‘জ্যোৎস্নার জলে স্নান’। এরপর ২০১৮ সালে প্রকাশ পায় দ্বিতীয় কবিতাগ্রন্থ ‘রাত্রি নামাই ভালোবেসে’। এবাবের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নব সাহিত্য প্রকাশনীর উদ্যোগে আসছে তার প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বলতে এলাম ভালোবাসি’। গ্রন্থসংখ্যায় তৃতীয় হলেও কবিতার বাইরে এটি তার প্রথমগ্রন্থ।

বর্তমান সময়ের অন্যতম কবি ও প্রাবন্ধিক পিয়াস মজিদ রাহাতের এ বইটিকে তার ভবিষ্যৎ সবল গদ্যসত্তার ইশারাবাহক উল্লেখ করে ভূমিকায় লিখেছেন: “রাহাত রাব্বানীর গদ্যগুচ্ছ পড়তে পড়তে সাহিত্য মূল্যায়নে তার বৈচিত্র্য-পিপাসা বিশেষভাবে চোখে পড়ে। যে বয়সে সবাই কেবল কবিতা, গল্প লিখে থাকে সে সময় রাহাত নিপুণ নিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথ থেকে অকালগত মাহবুবুল হক শাকিলের সৃষ্টিভুবন পর্যন্ত যে অন্বেষী দৃষ্টিপাত করেছে তা বিস্ময়কর বটে। রবীন্দ্রনাথ থেকে বাংলা সাহিত্যের ঋদ্ধ পরম্পরায় জীবানানন্দ, আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, নির্মলেন্দু গুণ, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও হেলাল হাফিজের মত কবিদের শব্দশস্য যেমন রাহাতের অবলোকন ও আলোচনার বিষয় হয়েছে তেমনি কথাশিল্পের ক্যানভাসে সেলিনা হোসেন, আনিসুল হকের লেখালেখিও এই তরুণ প্রাবন্ধিকের বিশ্লেষণ পেয়েছে।”

তিনি আরও লিখেছেন, “সাহিত্যের পরিসর ছাপিয়ে এই বইয়ে প্রান্তের মুক্তিসংগ্রামীরা লেখকের কেন্দ্রীয় মনোযোগ লাভ করেছে। আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের আলোক-অভিযাত্রাকে তিনি বৃক্ষের সবুজ সচল বিস্তারের সাথে তুলনীয় ভেবেছেন আবার ব্যক্তি বারী সিদ্দিকীতে তিনি দেখে উঠেছেন আমাদের সামষ্টিক সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার সূত্রসার। সাহিত্যকে দেখার এক নিজস্ব দৃষ্টিকোণ আছে রাহাত রাব্বানীর, সেই সঙ্গে ভাষার সৌন্দর্য তার প্রবন্ধপাঠে আমাদের আগ্রহী করে। বিষয়ানুগ উদ্ধৃতি-সমাবেশ তার গদ্যকে করে প্রামাণ্য। রাহাত রাব্বানীর এই বইটি তার ভবিষ্যৎ সবল গদ্যসত্তার ইশারাবাহক।”


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত