সোমবার, ২৩ মে ২০২২

লেখা কপি করা প্রসঙ্গে : মিনা শারমিন

কপি করা অবশ্যই ঘৃণিত কাজ। যার কষ্টের লেখা কপি করা হয় তার জন্য প্রচণ্ড কষ্টকর একটি ব্যাপার এই কপি। আমি নিজে কপি করাকে গর্হিত কাজ মনে করি এবং সজ্ঞানে আমার কোনো গল্প অথবা কবিতায় কারো থেকে কোনো লাইন এখন পর্যন্ত ব্যবহার করিনি আর করবোও না ইনশাআল্লাহ। লেখার এতটা আকাল পড়লে লেখালেখি ছেড়ে দিতে দু’বার ভাববার অবকাশ নেই আমার।

নিজের দিকটা তুলে ধরে সবাইকে শুরুতেই ক্লিয়ার করে নিলাম নয়তো এখন যে বিষয়গুলো বলব এতে কারো কারো অতি আঙ্গুল আমার দিকেও পড়তে পারে। রকমারি ডট কমের বইয়ের মতো রকমারি মানুষের বাস এই ফেসবুক লিস্টে। পান থেকে চুন গড়মিল হলে অথবা কারো অপছন্দ হলে ছেঁচায় পড়তে একটুও দেরি লাগবে না আমার।
কপি বলতে ব্যক্তিগতভাবে আমি বুঝি মূল লেখকের কোনো লেখা তার নাম উল্লেখ না করে কৌশলে নিজের নামে চালানো অথবা সরাসরি চালানো, মূল লেখা থেকে লাইনগুলি হুবহু লেখা, কোনো অংশ কেটে লেখা অথবা এদিকসেদিক করে বুদ্ধি খাটিয়ে লেখা। শেষের অংশের কপিবাজরা অনেক বেশি বুদ্ধিমান বটে। এই বুদ্ধিটা মৌলিকতায় কাজে লাগানোটাই তাদের এবং সবার জন্য মঙ্গলজনক এটা বোঝা উচিত স্ব-দায়িত্বে।
যা হোক, এসব নিয়ে আমি আজ পোস্ট লিখতে বসিনি। কপি নিয়ে আমার আজকের টপিকের তীর অন্যদিকে।

কপিজাতীয় একটা ব্যাপার নিয়ে আমার খটকা আছে। প্রেমের গল্পে যদি বিশ্ববিদ্যালয়জাতীয় হাজার হাজার গল্প থাকতে পারে তবে মানুষের মাংস নিয়ে যেকোন রচনায় পাবলিক নাজিমউদ্দিনের কপি বলে নাক সিঁটকাবে কেন? মিথের কথা বাদ দেই কারণ এলাকাভিত্তিক লোকমুখে প্রচলিত গল্প লেখকদের কপির মুখে পড়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। শ্বশুর শাশুড়ি, প্রেমে ছ্যাঁকা, নির্যাতন, ধর্ষণ, খুন নিয়ে হাজার হাজার গল্প আছে কিন্তু তাতে কারো গায়ে কপিবাজের সিল পড়ে না সচারচর।

এদিকে মানুষের মাংস নিয়ে কোনো লেখার প্লট যদি নাজিমউদ্দিন থেকে 150 ডিগ্রী বিপরীতমুখীও হয় তবুও নাকের নিচ মানে ঠোঁট দিয়ে হলেও ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি’র গন্ধ শুঁকবে পাবলিক। ক্যাটাগরি থ্রিলার বলেই যদি এমন হবে তবে সিরিয়াল কিলারের ক্ষেত্রে চিহ্ন থেকে কবিতা-রুমাল রেখে যাওয়াটা একটা ট্রেন্ড। এখানেও সচারচর কপির ঝামেলা উঠে না। না কি অধিক জনপ্রিয় কোনো রচনাপরবর্তী বিড়ম্বনা এগুলো?

আবার এমনও আছে কারো বইয়ের প্রচার পোস্টের কাহিনিসংক্ষেপ দেখেই অনেক লেখক বুঝে ফেলেন এটা তার ফেসবুকের কোনো ধারাবাহিক রচনার কপি। এই পোস্টগুলো দেখে আমার মনের প্রতিক্রিয়া যা হয় সেটা শেয়ার করছি। কপি করে গল্পের কিছু লাইন লেখা যায় হয়তো গল্পও, কবিতার কিছু অংশ লেখা যায় অথবা কবিতাও কিন্তু একটি বই লিখতে একজন মানুষের নিজস্ব কিছু মেধাসংক্রান্ত পার্সপাতি অবশ্যই লাগে। আমার নিজস্ব মত বলে কপি করে পুরো একটা বই লেখা অসম্ভব। বই লেখা কোনো কমলার খোসা ছিলার মতো কাজ নয় যে হাত দাবালেই খোসা ছুটে আসবে। দুনিয়াতে কঠিন কয়েকটি কাজের একটি এই বই লেখা। ঘটনার ধারাবাহিকতা থেকে অনেক বুদ্ধিমত্তা পাড়ি দিয়েই একটি লেখা পান্ডুলিপি আকারে রূপ নেয়।

যাহোক আমাকে কেউ ভুল বুঝবেন না প্লিজ। আমিও কপির ঘোর বিরোধী এবং আমার লেখা কপি হয়েছে এমনটি নজরে পড়লে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থা নিতে সদা প্রস্তুত। তবে কোনটা কপি আর কোনটা ধারনার মিল এটা আমাদের নিজেদেরই বুঝতে হবে। আসুন কপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হই আবার অহেতুক পুরোটা না বুঝে কাউকে কপিবাজের তকমা না দেই।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত