শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১

শিক্ষাকে ফলপ্রসু করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার

প্রাথমিক শিক্ষাকে ফলপ্রসু করতে বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

২০১৩ সালে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো এক সাথে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এক লাখ চার হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে এসডিজির লক্ষ্য পূরণে দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে দেশ।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের প্রয়াসে বাস্তবমুখী পদক্ষেপও গ্রহণ করে চলেছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও গুণগত মানোন্নয়নের মাধ্যমে সবার জন্য প্রাথমিক, একীভূত ও জীবনব্যাপী শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও জীবনব্যাপী শিক্ষা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত অনুপাত অর্জন করতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৩৮ হাজার ২৩৯ জন শিক্ষক নিয়োগ করেছে এবং নির্মাণ করেছে ৩৯ হাজার ৫০০টি শ্রেণিকক্ষ। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসচেতন করে গড়ে তুলতে ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯ হাজার ৯০০টি নলকূপ স্থাপন ও ২৩ হাজার ৩৯০টি ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হয়েছে একই সময়ে। এ ছাড়া প্রতি বছরের ১ জানুয়ারি সকল শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চার রঙে মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্যতাযোগ্য সকল শিক্ষার্থীর মায়ের একাউন্টে উপবৃত্তির অর্থও প্রদান করে যাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস করতে ১০৪ উপজেলায় চালু করা হয়েছে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম। শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন ১২টি পিটিআই স্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিবছর সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান’ বাস্তবায়নের জন্য বাৎসরিক ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ প্রদানও অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে যথাক্রমে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুনন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের (৬৪ জেলা) প্রথম ধাপে ৬৩ জেলায় ১৩৮ উপজেলায় ৩৯ হাজার ৩১১ শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪১ জন নিরক্ষর নারী-পুরুষকে সাক্ষরতা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা গেছে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত