সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১

শিক্ষাখাতে অনিয়ম, দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্য চরমে

দেশের শিক্ষাখাতে অনিয়ম, দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্য চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারি ও প্রকল্পের টাকা লুটপাটের ক্ষেত্রে এ সেক্টর সব দফতরকে ছাড়িয়ে গেছে। থানা শিক্ষা অফিস থেকে শুরু করে আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস, শিক্ষা ভবন এমনকি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগে রয়েছে ঘুষের প্রভাব। স্কুলে ছাত্র ভর্তি, শিক্ষক নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, শিক্ষকের এমপিওভুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, জাতীয়করণসহ অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের পেনশনের টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হয়।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, মেরামত, আসবাবপত্র ও শিক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটা ও সরবরাহের প্রতিটি ধাপেই চলে সীমাহীন চাঁদাবাজি। শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগে চলে সরকারি অর্থের যথেচ্ছ অপচয় আর লুটপাট। চলতি অর্থবছরের বাজেটে (২০১৮-১৯) শিক্ষা খাতে ৫২ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এ বরাদ্দের অর্ধেকের বেশি ব্যয় হচ্ছে অবকাঠামো উন্নয়নে। ফলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে অনিয়ম-দুর্নীতিও বেড়েছে।

দেশের বেশির ভাগ প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ঘুষ ছাড়া কিছুই হয় না। নানা নামে ঘুষ নেন কর্মকর্তারা। বদলি, এমপিওভুক্তি, পদোন্নতি, টাইম স্কেল- পদে পদে হয়রানির শিকার হন প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষকরা।

পেনশনের কাগজপত্র প্রক্রিয়ায় ঘুষ লাগে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের উদ্যোগ নিতে চাইলে কমবেশি ২০ ধাপে ঘুষ দিতে হয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ‘ইতিবাচক পরিদর্শন রিপোর্ট’ করিয়ে নিতে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দেওয়া এখন অলিখিত বিধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এমপিওভুক্তির কাজে একজন শিক্ষক বা কর্মচারীকে ন্যূনতম ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়।

এই ঘুষ বাণিজ্য দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ফলে শিক্ষকদের হয়রানির মাত্রাও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এ ছাড়া নাম, বয়সসহ নানা বিষয় সংশোধন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পেতে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ফাইল পাঠাতে ঘুষ দিতে হয় ৮-১০ হাজার টাকা। জেলা শিক্ষা অফিসে দিতে হয় ৫-৭ হাজার টাকা। শিক্ষাখাতের এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের ৩৯ দফা সুপারিশসহ সতর্ক বার্তা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত