সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১

শিক্ষা কর্মকর্তার সামনেই প্রধান শিক্ষককে আ’লীগ নেতার মারধর

সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সাইদ বলেন, প্রধান শিক্ষককে মারধরের সময় আমি ঠেকাতে গেলে সভাপতি আমাকেও কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

পাবনার বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারের সামনেই মারধর করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা নুর ইসলাম।

মঙ্গলবার দুপুরে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নিজ কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসহ স্থানীয় প্রশাসনে তোলপাড় চলছে। নুরুল ইসলাম হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হাটুরিয়া-জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি।

জানা গেছে, স্কুলের ২ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর লিজ দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বিদ্যালয়ের সভাপতি নুরুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে তিক্ততা চলছিল। এরই জের ধরে সভাপতি প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন বলে প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক শামীম আকতার জানান, সভাপতি নুর ইসলাম স্কুলের ২ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর গত ৯ বছর ধরে লিজ দিয়ে টাকা স্কুলের তহবিলে জমা না করে নিজের পকেটে তোলেন। এবারেও পুকুরটি স্কুলের অন্য সদস্য আবদুল আলীম ভাষাকে লিজ দেন। লিজের টাকা স্কুল তহবিলে জমা না দিয়ে সভাপতি ও ওই সদস্য টাকা ভাগ করে নেন।

তিনি বলেন, আমি ২ বছর হলো এই স্কুলে যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকে পুকুর লিজের টাকা স্কুল তহবিলে জমা দেয়ার জন্য অনুরোধ করি। কিন্ত তিনি তা দেননি। এ নিয়ে আমার ওপর সভাপতি ও তার সহযোগী স্কুলের অন্য ২ সদস্য ক্ষিপ্ত হন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে আমার ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সাইদ স্কুলে আসলে আমি সভাপতিকে স্কুলে আসার জন্য মোবাইল ফোনে জানাই।

প্রধান শিক্ষক জানান, কিছুক্ষণ পর সভাপতি অন্য ২ সদস্য আবদুল আলীম ভাষা এবং আলতাফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আমার কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় সভাপতি সহকারী শিক্ষা অফিসারের কাছে আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ দেন। এতে আমি প্রতিবাদ করলে সভাপতি নুর ইসলাম আমার ওপর চড়াও হন এবং একপর্যায়ে আমাকে কিল, ঘুষি ও অফিসের চেয়ার তুলে আঘাত করেন। এ সময় অন্য ২ সদস্যও তার সঙ্গে যোগ দেন।

সহকারী শিক্ষা অফিসারসহ অন্যান্য শিক্ষক তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে সভাপতি সহকারী শিক্ষা অফিসারকেও কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

সভাপতি ও তার সহযোগীদের মারধরে প্রধান শিক্ষক শামিম আকতার গুরুতর আহত হন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আবদুল আলীম নামে এক শিক্ষকের হাত কেটে যায়। তারা বেড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনার পর আহত প্রধান শিক্ষক শামিম আকতার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাইদকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করেন।

পরে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী বেড়া মডেল থানায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক শামিম আকতার অভিযুক্ত সভাপতি ও তার ২ সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ভাপতির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাকে ধাক্কা দিয়েছেন, পরে আমি তাকে ধাক্কা দিয়েছি। এটুকুই।

সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সাইদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রধান শিক্ষককে মারধরের সময় আমি ঠেকাতে গেলে সভাপতি আমাকেও কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত