মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

শিশুদের হাতে বই তুলে দিন || ইমদাদুল হক মিলন

বইমেলায় একটা শিশুপ্রহর আছে। শুক্র ও শনিবার সকাল এগারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত। শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয় বেশ কয়েক বছর আগে। প্রথম প্রথম আমার ধারণা ছিল শিশুপ্রহরে বাচ্চাকাচ্চারা তেমন বইমেলায় আসে না। গত তিন-চার বছরে আমার এই ধারণাটা বদলে গেছে। আদিগন্ত প্রকাশন শুধু ছোটদের বই প্রকাশ করে। গত তিন বছর ধরে আমার ছোটদের বই প্রকাশ করে আসছে। এই স্টলটাতে শুক্র এবং শনিবার সকালবেলায় আমি গিয়ে একটু বসি। শিশু কর্নারে স্টল। সেদিকে নানান ধরনের আয়োজন। সিসিমপুর নিয়ে বাচ্চাদের ব্যাপক আগ্রহ। শিশুপ্রহরে সিসিমপুর গ্রুপ শিশুদের মনোরঞ্জনের খুব ভালো ব্যবস্থা করে।

আর শিশু কর্নারের স্টলগুলো শিশু-কিশোরদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে যায়। আদিগন্তের স্টলে বসে আমি মুগ্ধ হয়ে শিশুদের দেখি। শিশু-কিশোররা আমার কাছে আসে। আমার লেখা ছোটদের বইগুলো নেয়। আমার সঙ্গে ছবি তোলে। কত রকমের প্রশ্ন আমাকে করে। আমি তাদের সঙ্গে মজা করে কথা বলি। মা-বাবা এবং শিক্ষকরা থাকেন শিশুদের সঙ্গে। তাদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করি বই নিয়ে। বাচ্চাদের হাতে বই তারা তুলে দিচ্ছেনই। শিশু কর্নার থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রত্যেক শিশুর হাতেই আমি বই দেখতে পাই। এই দৃশ্যে কী যে আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না।

কে বলেছে আমাদের শিশু-কিশোররা বই বিমুখ হয়ে গেছে। কে বলেছে আমাদের শিশুরা বই পড়ে না। যারা এ কথা বলেন, আমি তাদের অনুরোধ করি বইমেলা চলাকালীন যে কোনো এক শুক্র বা শনিবার সকালে শিশুপ্রহরে আপনারা একবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আসুন। শিশু কর্নারে আসুন। দেখে যান আমাদের শিশুরা বই হাতে নিচ্ছে কিনা। তাদের সঙ্গে কথা বলুন। তাহলেই জানতে পারবেন তারা বই পড়ছে কিনা।

আমাদের সন্তানরা বই পড়ছে না, তারা বই বিমুখ হয়ে গেছে, এসব কথা যেভাবে ছড়িয়েছে এই ছড়ানোটা বন্ধ করা উচিত। আমাদের সন্তানরা বইবিমুখ হয়নি। বইমেলায় শিশুদের আগমন তা প্রমাণ করে, বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ তা প্রমাণ করে। আর যারা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচিটির কথা জানেন তারাও এটা স্বীকার করবেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচিতে পঁচিশ লাখ ছেলেমেয়ে যুক্ত। এর চেয়ে বড় আশার কথা আর কিছু হতে পারে না। বইয়ের আলোয় আলোকিত হোক আমাদের নতুন প্রজন্ম।

 


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত