শনিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২১

শুদ্ধ প্রেমের আর্তনাদ

জুনেদ আহমেদ

সময়টা ঠিক মনে নেই।

অনন্যার সাথে পরিচয় হয় বাংলা একাডেমির বই মেলায়। ওর হাতে ছিল আমার লিখা কবিতার বই। আমাকে দেখেই প্রথমেই ও সালাম দিল।

আমি হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছো?

উওরে বলল, জ্বী ভাল আছি!

আমায় জিজ্ঞেস করল, আপনি কেমন আছেন?

ওর কন্ঠ বেশ সাবলীল। আমিও বললাম, এইত ভাল আছি।

ও খুব আগ্রহ নিয়ে হাতের বইটা দেখিয়ে বলল, গতকাল আপনার কবিতার বইটা হাতে পেয়েছি।

আমি একটু হাসি দিয়ে জানতে চাইলাম, সবকটি কবিতা কি পড়েছ?

ও খুব আগ্রহ নিয়ে বলল, না সব এখনও পড়া হয়নি। তবে যে কটাই পড়েছি সবগুলোই রোমান্টিক ও প্রেম বিরহের সংমিশ্রণ। অনেক ভাল হয়েছে।

ওর কথায় মনে আনন্দের স্বস্তি বয়ে গেল।

ওকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা, তোমার নাম কী? থাকো কোথায়?

সে বলল, আমি কলকাতা থাকি। বাংলাদেশ এসেছি ঘুরতে। নাম অনন্যা।

খুব মিষ্টি মেয়ে, নামের মতই দেখতে।

পড়াশোনা কী কর? জিজ্ঞেস করলাম আমি।

ও বলল, কলকাতায় আমেরিকান এক মেডিকেলে তৃতীয় বর্ষে পড়ালেখা করছি।

ও বেশ মিষ্টি, চেহারা দেখলে যে কেউই বলবে নিঃসন্দেহে সুন্দরী। একজন খাঁটি বাঙালির সব আছে ওর মাঝে। অসম্ভব ভাল মনের মানুষ মনে হলো।

জিজ্ঞাসা করলাম, বাবা কী করেন?

অকপটে বলতে লাগল, বাবা ডাক্তার, দুই বোন, মা নিয়েই আমাদের সংসার।

পরিচয় এর বেশী জানার সুযোগ হয়নি। তবে সব বিশ্বাস দিয়েই ওর কথা বিশ্বাস করলাম।কবিতা নিয়ে প্রথম দিন বেশ জমিয়ে কথা হয় ওর সাথে।

ও এক সময় আমায় বলল, জানেন? কথা বলে আপনাকেও খুব ভাল লেগেছে। ওর কথায় বেশ হাসি পেয়েছিল আমার। পরে আবারও জিজ্ঞাসা, আপনি কি কালও আসবেন?

আমি বললাম, পরশু আসব।

আচ্ছা তা হলে আমিও আসব। ও বলল।

দুই দিন পর আমি ষ্টলে বসে আছি, হঠাৎ দেখলাম নীল রঙের জিন্সের প্যান্ট, বাদামি রঙের টি শার্ট, আর গলায় জড়ানো নীল ওড়না পড়া অনন্যা মেলায় আমার সামনে হাজির। আমাকে দেখেই জিজ্ঞাসা, কেমন আছেন?

আমি বললাম, ভাল , তুমি কেমন আছো?

ও মুচকি হাসি দিয়ে উত্তর দিল আমিও ভাল আছি।

ওকে দেখে মনে হলো, ওর চোখে মুখে কি এক অজানা অস্হিরতা!

আমি জিজ্ঞেস করলাম, সব কবিতা কি পড়া হয়েছে তোমার?

ও বলল জ্বি, একটাও বাকী নেই।

তারপর বলল, আপনার প্রতিটি কবিতা পড়েই মন জুড়িয়েছে।

তারপর মুচকি হাসি দিয়ে আবারও জিজ্ঞেসা, এত সুন্দর করে কি ভাবে এত রোমান্টিক কবিতা লিখেন?

ওর কথায় খুব হাসি হয়েছিল আমার। তারপর বললাম, কেন? মনে কি প্রেম থাকতে মানা নাকি?

ও লাজুক এক হাসি দিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে যায়। অবাক নয়নে কৌতুহল জন্ম হল আমার। কি হল তোমার?

ও বলল না কিছু না।

তারপর ওকে নিয়ে বাদাম খেলাম। ও বলল, আমার চানাচুর খুব ভাল লাগে। আমি ওকে চানাচুর কিনে দিলাম। অনেকক্ষণ কথা হয় ওর সাথে। হঠাৎ ও আমাকে বলল, আপনার ফেসবুক আইডির নাম কী?

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কি করবে আইডি দিয়ে?

ও বলল, আমি আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড হতে চাই?

ঠিক আছে অসুবিধা নেই। এবাবেই কিছু সময় কথা হয়। তারপর আমি বিদায় নেব, তখনই ও আমায় বলল, আপনাকে আমার খুব ভাল লেগেছে।

আমি বললাম, তা হলে ত আমি দারুন খুশি, কারণ আমার একজন ভক্তের কবিতাও ভাল লেগেছে, সাথে কবিকেও ভাল লেগেছে। এটা ত বলতে হবে আমার সৌভাগ্য। ও একটু লজ্জার হাসি হাসল। তারপর আমাকে বলল, আপনার সাথে পরিচয় হয়ে খুব ভাল লেগেছে। আমি কাল কলকাতা চলে যাচ্ছি। যদি কলকাতা আসেন আমাকে কল দিবেন।আমাদের বাসার সবার সাথে আপনার পরিচয় করিয়ে দেব।

আমি ওর কাছ থেকে বিদায় নেয়ার সময় লক্ষ করলাম, ওর চোখ ছলছল করছে। বুঝলাম মেয়েটি খুব ইমোশনাল হয়ে পড়েছে। তারপর ওর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সোজা বাসায় চলে আসি।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত