মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

সংলাপে কী ঘটেছিল?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে  বৃহস্পতিবার বহুল কাঙ্ক্ষিত ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সংলাপ হয়েছে। গণভবনে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত সাড়ে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এ সংলাপ হয়। সংলাপ নিয়ে দেশজুড়ে প্রত্যাশার পারদ চড়লেও স্বয়ং ঐক্যের নেতাদের কথাবার্তাতেই দ্বিচারিতা লক্ষ্য করা গেছে।

ঐক্যফ্রন্টের দলনেতা ড. কামাল হোসেন গণভবন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের জানান, ভালো আলোচনা হয়েছে। গণভবন থেকে বেইলি রোড মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ যেতেই পাল্টে যান প্রবীণ এই আইনজীবী। সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘সংলাপে প্রধানমন্ত্রী লম্বা বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরেছি। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। কিন্তু, আমরা কোনো সমাধান পাইনি।’

সংলাপ শেষে গণভবনের সামনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনা হয়েছে। আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি।’

ড. কামালের বাসভবনের ব্রিফিংয়েও তিনি একই কথা জানান। সংলাপের মাধ্যমে আশাব্যঞ্জক কিছু হয়নি। ফলপ্রসূ কোনো সমঝোতা না হলেও স্বল্পপরিসরে আরেকটি সংলাপে বসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দুই জোটের নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা অচিরেই এ বিষয়ে উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন। যদিও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ৮ নভেম্বরের আগে আর সম্ভব নয়। এরই মধ্যে আগামী রোববার নির্বাচন কমিশন বৈঠকে বসছে। সেখানেই হয়তো আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিলের সিদ্ধান্ত হবে এবং সম্ভবত পরের দিন ঘোষণা করা হবে। ফলে সংলাপের ফল নিয়ে ইতোমধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে!

সংলাপে অংশ নেয়া একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংলাপের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছিলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। কিন্তু, ক্ষমতাসীন জোট এ বিষয়ে কোনো ধরনের সাড়াই দেয়নি। সংবিধানের দোহাই দিয়ে আলোচনার টেবিলে এটিসহ কোনো ইস্যুই টানতেই দেননি ১৪ দলীয় জোটের নেতারা। তাদের অনেকে আবার কঠোর ভাষাতেও কথা বলেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংলাপে অংশ নেয়া ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ফ্লোর পেয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের দাবিসহ সাত দফা তুলে ধরেন। কিন্তু, ক্ষমতাসীন জোটের এক নেতা তার বক্তব্যের জবাবে দেন এভাবে— আগামী নির্বাচন যাতে সময় মতো অনুষ্ঠিত না হয়, আপনারা সে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে আরেকটি ৫ জানুয়ারি ঘটাতে চাচ্ছেন? নির্বাচন যাতে বানচাল হয়, দেশকে সেদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন? এরই মাঝে আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতাতো বলেই বসলেন, আরেকটি ১/১১’র ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাদের জোটের নেতাদের এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যে থ মেরে যান ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। অবশ্য ওবায়দুল কাদের বেশ ঠান্ডা মাথায় সে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন।’

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা মনে করছেন, দীর্ঘ সাড়ে ৩ ঘণ্টা ধরে সংলাপ হলেও মূল সংকট সমাধানের বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি।

মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সামনে আনলে সরাসরি আদালতের দোহাই নিয়ে ‘উড়িয়ে’ দেয়া হয়। এ সময় ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতা বলেন, ‘আপনারাতো আগেই গলা কেটে দিতে চাচ্ছেন, তাহলে এই আলোচনা করে কী হবে?’ এরপর আর এই ইস্যু এগোয়নি। অবশ্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন সংক্ষিপ্ত পরিসরে আরেকবার সংলাপে বসার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সায় দেন। তফসিলের বিষয়টি আসলে প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেন, এটা তাদের এখতিয়ার নয়। নির্বাচন কমিশন যেটি ভালো মনে করবে, সেটি করবে।

সংলাপের অর্জন বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সব সময় কি, সবকিছু অর্জন হয়? সবকিছুরই ধারাবাহিকতা আছে, সেভাবেই চলছে।’ ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘আমরা আমাদের ৭ দফা জানিয়েছি। মানা না মানা সরকারের ব্যাপার। তবে দাবি আদায়ে আমাদের কর্মসূচি চলবে।’

সংলাপের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রেখেছেন। কিছু কিছু অভিযোগ করেছেন জোট নেতারা। সে বিষয়ে আমাদের যেসব মতামত আছে, তা অত্যন্ত শালীনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন— তালিকা দিতে। সেটি পেলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত