সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

Advertisement

সচিবালয়ের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকেন মিটিং ও সেমিনার নিয়ে

Advertisement

প্রশাসনে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে কিছু বিধিবিধান। এ রকম দুটি বিধান এখন সম্পূর্ণ যেন ভুলতে বসেছেন কর্মকর্তারা। এর একটি সভাবিহীন দিবস। আরেকটি কর্মকর্তাদের যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত ও সার্বক্ষণিক অবস্থান। জনস্বার্থে এ দুটি পৃথক আদেশ নিকট-অতীতে জারি হলেও এ রকম বিধানের কথা সচিবালয়ে অনেক কর্মকর্তা এখন মনেই করতে পারেন না। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য- আইন, বিধিবিধান জনস্বার্থে জারি হলেও এক সময় তা অকার্যকর হয়ে পড়ে। কেন, কী কারণে এসব অকার্যকর হচ্ছে তার যথাযথ তদারকিও নেই। অনেক সময় দেখা যায়, বিধানের কথাটিও মনে নেই অনেকের। এ যে শুধু কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ঘটছে তা নয়, মাঠ প্রশাসনে এর ব্যাপকতা আরও বেশি।

২০০২ সালের ২৩ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, সরকারের সকল মন্ত্রণালয়-বিভাগ এবং এর অধীন অধিদপ্তর, দপ্তর, পরিদপ্তর সংস্থা প্রতিষ্ঠানগুলো সপ্তাহের মঙ্গলবার ‘সভাবিহীন’ দিবস হিসেবে নির্ধারিত থাকবে। এ দিন কোনো সংস্থায় সভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ করা যাবে না। কোনো কর্মকর্তাও এ দিন এ ধরনের  কোনো সভায় যোগ দেবেন না। জরুরি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে মন্ত্রণালয় এ দিন সভা আহ্বান করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নোটিশ বা আমন্ত্রণপত্রে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন গৃহীত হয়েছে বলে উল্লেখ থাকতে হবে। সভাবিহীন দিবসে সচিব ছাড়া অন্য কর্মকর্তারা অফিস ব্যবস্থাপনা ও দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎদান কার্যক্রম সম্পাদন করবেন। তবে জরুরি প্রয়োজনে সচিবরা ভ্রমণসূচি জারি করে সফর ও পরিদর্শনে যেতে পারবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, এ নির্দেশনা এখনও বলবৎ রয়েছে। কিন্তু মানছেন না কেউই। প্রতিদিনই সভা, না হয় স্বেচ্ছাধীন অফিস সূচি চালু করেছেন অনেকে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ হচ্ছে না। সরকারি দপ্তর-অধিদপ্তর আর সংস্থার কর্মকর্তারা থাকেন দিনভর সচিবালয়ে। সচিবালয়ের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকেন মিটিং-সিটিং, সেমিনার ও ক্লাস নেওয়ায়। সপ্তাহের ৭ দিনের মধ্যে কর্মদিবস ৫ দিন, বাকি দু’দিন সরকারি ছুটি। পাঁচ দিনের চিত্র সভা, সেমিনার ও কর্মশালার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে সাধারণ মানুষের কথা জনমুখী প্রশাসনে শোনার কেউ থাকেন না। এ অবস্থায় বস্তুত প্রশাসন এখন চলছে ব্যতিক্রম ছাড়া কর্মকর্তার মর্জিমাফিক। অনেক জরুরি প্রয়োজনে ফোনের পর ফোন করেও ঊর্ধ্বতনেরা পান না সংস্থার প্রধান বা সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাকে।

Advertisement


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত