শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১

সড়ক বিভাগের গাফিলতির কারণে প্রাণ যাচ্ছে অনেকের

মঞ্জুরুল ইসলাম রনি, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি

শরীয়তপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষের সীমাহীন গাফিলতি, দায়িত্বহীনতা, উদাসীনতা ও অবহেলার কারণে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ছে শরীয়তপুরের বিভিন্ন সড়কে। হরহামেশা ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ যাচ্ছে অনেকের।

শরীয়তপুর-নড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে চলছে দু’টি ব্রীজ নির্মাণের কাজ। নির্মাণাধীন ব্রীজ দু’টির পাশে কোন বিকল্প রাস্তা (বাইপাস সড়ক) না থাকায় ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা। গত ১ মাসে এ সড়কে ১০টির অধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ শরীয়তপুর-নড়িয়া সড়কে পাথরভর্তি ট্রাক যেনতেনভাবে নির্মিত বেইলী ব্রীজ ভেঙ্গে খাদে পড়ে একজন ব্রীজ নির্মাণ শ্রমিক নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছে।

এছাড়াও অন্য দুর্ঘটনায় আরো ২জন নিহত ও  অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। এক দিকে জনসাধারণের যাতায়াতে বাড়ছে সীমাহীন দুর্ভোগ, অন্যদিকে মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে শরীয়তপুর-নড়িয়া সড়কে পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাফিলতির কারণে জনসাধারণের এমন ভোগান্তি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সড়কগুলো পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে।

সড়কে উন্নয়নমূলক কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সড়ক মেরামতের পর ৬ মাস যেতে না যেতেই সড়কে দেখা দেয় বড় বড় গর্ত, বিভিন্ন স্থানে ফাটল এবং সেই সাথে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের ঢালাই থেকে উঠে যাচ্ছে ইট, সুরকি ও পাথর। ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজশে সড়ক উন্নয়নমূলক কাজে দিনকে রাত আর রাতকে দিন করছে সড়ক বিভাগ, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

শরীয়তপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান বলেন, আমাদের কাজে কোন গাফিলতি নাই। তবে করোনা মহামারীর কারণে কাজে একটু ধীরগতি। আর অতিরিক্ত মালবাহী ট্রাক উঠার কারণে বেইলি ব্রীজ ভেংগে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

শরীয়তপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর-নড়িয়া আঞ্চলিক সড়কের কোরাইশী, চান্দনী এলাকায় শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি কালভার্ট ও ১২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের দরপত্র আহবান করে। সর্বনিম্ম দরদাতা হিসাবে এম এম বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়।

গত ২বছর ধরে বিকল্প রাস্তা নির্মাণ না করে এবং কোন সংকেত না দিয়ে পুরাতন সেতুর উপরে নাট বল্টু ছাড়াই একটি বেইলি ব্রীজ বসিয়ে  যানবাহন পারপারের ব্যবস্থা করে উক্ত স্থানে ব্রীজ নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালকরা গাড়ি পারাপার এবং পাশেই শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়ছে জনসাধারণ। এখানে গত দু’মাসে প্রায় ১০টির অধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

গত কোরবানীর ঈদের দিন রাতে শরীয়তপুর-নড়িয়া সড়কের চান্দনী ব্রীজ এলাকায় রাস্তার উপরে ঠিকাদারের লোকজন নির্মাণ সামগ্রী রাখার কারণে সেখানে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার বেপারীকান্দি এলাকার কামাল বেপারীর ছেলে আকিব বেপারী (২০) নিহত হয় এবং এলাকার নাইমুদ্দিন বেপারীকান্দির বাসেদ দেওয়ানের ছেলে কাউসার ও একই গ্রামের জাহাঙ্গীর বেপারীর ছেলে মিয়াদুল ইসলাম বেপারী মারাক্তকভাবে আহত হয়।

৯ আগস্ট পাথর বোঝাই একটি ট্রাক এ রাস্তায় নড়িয়ার দিকে যাওয়ার সময় বেইলী ব্রীজ ভেঙ্গে উল্টে পড়ে যায়। এ সময় সেখানে কাজ করতে থাকা শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার স্বর্নঘোষ এলকার মৃত মনির উদ্দিন বেপারীর ছেলে নয়ন বেপারী(৩২), একই এলাকার মজিবুর সরদার (৬০), তাহের সিকদার (৫৫, ছমেদ খান (৬০) ও দেলোয়ার হাওলাদার(৩৫) পাথর চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়।

আহত শ্রমিক মজিবর সরদার বলেন, ভাগ্যক্রমে আমরা ৪ জন বেচে গেলেও নয়ন বেপারী পাথর চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। স্থানীয় খলিল খান বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকেরা ভালোভাবে রাস্তার কাজ করছে না। ফলে রাস্তায় অহরহ দুর্ঘটনায় অনেকে আহত বা নিহত হচ্ছে।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত