মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

সরকারি প্রাথমিকে নার্সারির আদলে দুটি শ্রেণি হচ্ছে

দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘নার্সারি’ শ্রেণি চালুর পরিকল্পনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিশুদের কিন্ডার গার্টেন বিমুখ করা ও ৪ বছর বয়সী সব শিশুকে সরকারি প্রাথমিকে ভর্তির জন্যই এ ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২০ সাল থেকে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, প্রথম শ্রেণির আগে আরো দুটি শ্রেণি চালু করা হবে। এর নাম কী হবে এবং এর কারিকুলাম তৈরির জন্য প্রাথমিক ও শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি শিশু চার বছর বয়সে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হবে। নার্সারির আদলে একটি শ্রেণিতে সে পড়বে। এরপর পাঁচ বছরে ‘শিশু শ্রেণি’ বর্তমানে যা প্রাক-প্রাথমিক হিসেবে চালু আছে সেখানে পড়বে। শিশু শ্রেণির নামও পরিবর্তন হতে পারে। এরপর ছয় বছরে প্রথম শ্রেণিতে পড়বে।

বর্তমানে অভিভাবকরা তার সন্তানকে চার বছর বয়সে স্কুলে পাঠাতে চাইছে। সরকারি প্রাথমিক স্কুলে এ ব্যবস্থা না থাকায় অভিভাবকরা তার সন্তানকে কিন্ডার গার্টেনে ভর্তি করেন। প্রাথমিক স্কুলে চার বছর বয়সে ভর্তি করা গেলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের আর কিন্ডার গার্টেনে পাঠাবেন না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও ভালোভাবে চলবে এমন ধারণা মন্ত্রণালয়ের। দেশজুড়েই কিন্ডার গার্টেনের রমরমা ব্যবসার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ঝিমিয়ে পড়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।

বাংলাদেশে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬০১টি। সরকারি তালিকা অনুযায়ী কিন্ডার গার্টেন রয়েছে ২২ হাজারের বেশি। এসব কিন্ডার গার্টেন থেকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার পরীক্ষার্থী এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর বাইরে কয়েক হাজার কিন্ডার গার্টেন রয়েছে যার কোনো অনুমোদন নেই। ইচ্ছেমত পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে। শিক্ষার নামে বাণিজ্য করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিন্ডার গার্টেনের কর্মকাণ্ড পুরোটাই নিয়ন্ত্রণহীন।

মাত্র এক হাজার ৫শ’ থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের শিক্ষক হিসেবে নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে এসব কিন্ডার গার্টেন। আবার এসব কিন্ডার গার্টেনের বেশিরভাগই বিকেলে কোচিং সেন্টারে রূপ নেয়।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেছেন, কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষা মানহীন। কঠোরভাবে এ শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ভবিষ্যত শিশু শিক্ষায় বিরূপ প্রভাব পড়বে।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত