সোমবার, ২৩ মে ২০২২

সরল জীবনের অধিকারী

ফারজানা ইয়াসমিন

জীবনের সবকিছু নিয়তি ভেবে চলা
মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি সুখী হয়,
কারণ তাদের নিজের ব্যর্থতা বা
অপারগতা নিয়ে আফসোস কম থাকে।
যারা বিশ্বাস করে কর্ম দিয়ে নিয়তি বদলানো যায়,
তারা ব্যর্থ হলেই দুমড়ে মুচড়ে যায় মানসিকভাবে।

মনের কঠিন কাঠামোগুলোতে ধীরে ধীরে ঘুণে ধরে,
এ সময় ভেঙে যায় ধূলোর মতো গুড়ো গুড়ো হয়ে।
ফুটপাতে অনাহারে জীবন কাটিয়ে দিতে পারে
একদল ঘর হারা মানুষ কোন গ্লানি না রেখে মনে।
অন্য একদল মানুষ প্রতি নিয়ত যুদ্ধ করে,
কখনো নিজের সাথে কখনো ভাগ্যের সাথে।
খাবারের খোঁজে যে মানুষ ঘুরে দাঁড়ে দাঁড়ে,
সেও রাত্রি এলে গামছা পেতে ঘুমায় নিশ্চিন্তে।
কিন্তু যারা অট্টালিকায় করে বসবাস
তারা দিন শেষে নিতে পারে না প্রাণ ভরে শ্বাস।

ফুটপাতে হেঁটে হেঁটে যারা পণ্য বিক্রি করে জীবিকার তাগিদে,
তারাও দু’বেলা দুমুঠো খেয়ে সৃষ্টি কর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করে।
কিছু মানুষ অর্থের পাহাড় গড়ে বসে আছে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে,
যাদের ঘরে হরেকরকম খাবার নিয়ে পসরা সাজে বেলায় বেলায়,
তারা কিন্তু বেলা শেষেও হায় হায় করে বিলাপ করে যায়।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যারা সারাদিন খেটে যায় গাধারখাটুনি,
পকেটে যাদের জুটে কোন রকমে দিন চালিয়ে যাবার যোগাড়,
তারাও দিন শেষে হাসি মুখে ভাবে এটাই বা কম কিসে একদিন বাঁচার?
অথচ যারা এসির ঠাণ্ডায় বসে আরামে করছে দিনের কাজ,
তাদের নাকি অনেক কষ্ট অনেক মাথা ঘামানোর কাজ।

সম্পদ নাই যার হিসাব তার খুব সহজ জীবনের,
লাভ ক্ষতির হিসাব করে মরতে হয় না হিসাবের গরমিলে।
এত এত ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়ে যাদের নিত্যদিন মাথা ব্যথা,
তারা শুধু নামেই সুখী, তাদের নেই কোন জীবনে সুখের দেখা।
হায়রে মানুষ কিসের হিসাব করে যায় দিনরাত?
তারচেয়ে এই ভালো সৃষ্টি কর্তার দান যতটুকু
ততটুকু পেয়েছি আমি এই পৃথিবীর বুকে।

কর্ম গুণে সবকিছু হয় না তো সব পাওয়া বেলা অবেলায়,
কিছু কিছু হিসাব তো ভাগ্য চিরকাল করে দেয়।
যতই ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে চাই বারবার,
ততবারই আটকে যায় ভাগ্যের রেখা বরাবর।
সবই আসলে ভাগ্যের খেলা বুঝতে হয় যে দেরি,
যারা ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয় সব, তারাই সরল জীবনের অধিকারী।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত