বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

সাকিবের বিদায়ে স্বপ্ন ফিকে বাংলাদেশের

মাথায় ওপর ৩১৫ রানের বড় লক্ষ্য। তবে বুঝে-শুনে খেললে এজবাস্টনে এই রান তাড়া করা অসম্ভব নয়। বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম এবং সৌম্য সরকার সাবধানী শুরু করেন। এরপরই সেট হয়ে আউট হন তামিম। দল ভরসা খুঁজছিল সাকিব ও সৌম্যে। কিন্তু একপাশে সাকিবকে রেখে সৌম্য, মুশফিক, লিটন ও মোসাদ্দেক আউট হন। বড় লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ চাপে পড়ে। এরপর সাকিব আল হাসানের বিদায়ে ফিকে হয়ে এসেছে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন।

বাংলাদেশ ৩৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ১৮৭ রান। তামিম ইকবাল ফিরেছেন ২২ রান করে। সৌম্য সরকার ৩৩ রানে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর সাকিবের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়ে ফেরেন মুশফিক। তিনি করেন ২৪ রান। সাকিব আল হাসান বিদায় নিয়েছেন ৬৬ রান করে। লিটন দাস ২২ রান করে আউট হন। এরপরই ফিরে যান মোসাদ্দেক।

৩১৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা দেখেশুনেই করেছিল বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার মিলে যোগ করেন ৩৯ রান। দশম ওভারে মোহাম্মদ শামির বলে ইনসাইড এজ হয়ে ফিরে আসেন তামিম। ২২ রান করেন টাইগার ওপেনার।

১৬তম ওভারের প্রথম বলে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে বিরাট কোহলিকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসেন সৌম্য সরকার। ৩৮ বলে ৩৩ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ওপেনাররা ফিরলেও সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমে টিকে ছিল বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।

স্কোরে ৪৭ রান যোগ করেন সাকিব-মুশি। ২৩তম ওভারে যুবেন্দ্র চাহালের বলে শামিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসেন মুশফিক। ২৩ বলে ২৪ রান করেন তিনি। মুশি ফেরার পর লিটন দাসকে নিয়ে রান চাকাটা এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন সাকিব। তারা যোগ করেন ৪১ রান।

৩০তম ওভারের তৃতীয় বলে হার্দিক পান্ডিয়াকে ছক্কা হাঁকানোর পরের বলেই আবার ব্যাট চালান লিটন দাস। ভাগ্য এবার সহায় হয়নি তার। দিনেশ কার্তিককে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেলেন ২৪ বলে ২২ রান করা এই ব্যাটসম্যান।

লিটন ফেরার পরই ম্যাচ থেকে আস্তে আস্তে দূরে যেতে থাকে বাংলাদেশ। ১৭৩ রানে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও এরপর স্কোরে আর ছয় রান যোগ হতেই ফিরে যান সাকিব আল হাসান। ৭৪ বলে ৬৬ রান করেন সাকিব।

এর আগে ভারত ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান তোলে। দলের হয়ে রোহিত শর্মা খেলেন ১০৪ রানের ইনিংস। বিশ্বকাপে রোহিতের এটি চতুর্থ সেঞ্চুরি। তার ওপেনিং সঙ্গী কেএল রাহুল খেলেন ৭৭ রানের ইনিংস। এছাড়া ঋষভ পান্তের ব্যাট থেকে আসে ৪৮ রান।

বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজুর এ ম্যাচে ৫৯ রান খরচা করে ৫ উইকেট নেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে তিনবার পাঁচ উইকেট নিলেন বাঁ-হাতি এই পেসার। সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার এবং রুবেল হোসেন নেন একটি করে উইকেট।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত