বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২

সানজিদা হোসেনের ছড়া

রুটি বলে গোল হবো না
কুসুম বলে ভেঙে যা,
সবজি কুটতে বেখেয়ালে
পাতিলেতেই পুড়লো চা।

পাউরুটিতে ভরসা করে
জ্যাম জেলিতে ফেরত যাই,
জ্যাম দিয়ে যার সকাল শুরু
সিগন্যাল এ তার রেহাই নাই।

স্কুল ডিউটি শেষ করে যেই
ফিরলাম নিজ বাড়িতে
ঘাম শুকানোর আগেই ভাবি
ভাত চড়াবো হাড়িতে।

কলটা খুলে বালতি ধরি
পানির কোনো দেখা নাই
শ্যাম্পু মাথায় গায়ে সাবান
এখন আমি কই যে যাই।

দুপুরবেলা একটু জিরোই
তারও যে কী উপায়,
মশা এসে চুমুক দিবে
ঠিক আমারই দুটো পায়।

সন্ধ্যা হতেই চা নাস্তা
হুটোপুটি এক চোট
কে আগে পড়তে বসবে
তাই নিয়ে হয় ভোট।

কন্যার পড়া পুত্রকে দেই
কন্যাকে দেই পুত্রর কাজ
দুইজনকে শিক্ষা দিতেই
পার হলো মোর সাধের সাঁঝ।

এবার তাদের খেলতে দিয়ে
রাতের খাবার রাঁধতে যাই
দুপুরে যা খাবে তা আর
রাতে দিলে রক্ষে নাই।

এমনি করে দিনগুলি মোর
সোনার খাঁচায় রইলো না
গিন্নীদের নিয়ে রবীন্দ্রনাথ
কেন কিছু কইলো না।

নজরুলের পরিচয় কী
কেবল ঝাকড়া চুলেতে
আমি যে রোজ বিদ্রোহী হই
নানান রকম ভুলেতে।

বনলতা রাঁধতো যদি
জীবনানন্দ জানতো
চুল তার কবেকার
ঘেমে নেয়ে ক্লান্ত।

এর নাম বুঝি হাউজওয়াইফ
খেটেখুটেও মরি না
‘কী করো’ কেউ জিজ্ঞাসিলে
বলি ‘কিছু করি না’!


© 2022 - Deshbarta Magazine. All Rights Reserved.