রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর হাসপাতালে জনবল সংকট : ভবনগুলো মরণ-ফাঁদ

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ থেকে

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা আসহায় জনসাধারণ। আর হাসপাতালে আবাসিক ভবনগুলোতে বসবাসকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পড়েছেন বিপাকে। কেননা ভবনের নানা সমস্যায় থাকায় মেরামতের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে তারা চরম দূর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। ফলে তাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শুধু আবাসিক ভবনগুলোতেই সমস্যা নয়; হাসপাতালের মূল ভবনেও রয়েছে নানান সমস্যা। সম্প্রতি হাসপাতালের কিছু অংশে মেরামত হলেও গুরুত্বপূর্ন অংশগুলোতে কোন মেরামত হয়নি। ফলে ভবনগুলো এক একটা মরণ ফাঁদে পরিনত হচ্ছে।

জানাযায়, উপজেলা ৪লক্ষাধিক জনসাধারণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র্দীঘদিন ধরেই বিশেষ রোগের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তারসহ বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা, কর্মচারীর পদ শূন্যতা বিরাজ করছে। আর জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি যেন নিজেই রোগী হয়ে লাইফ সার্পোটে আছে। ফলে প্রাপ্য চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাওর বেষ্টিত তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২৫২টি গ্রামের ৪ লক্ষাধিক গরীব অসহায় জনগণ। র্কমকর্তা ,ডাক্তাররা যোগদানের পর থেকেই অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ার জন্য তদবির করে বদলী হয়ে যায়। যার জন্য শূন্যতা পিছু ছাড়ে না হাসপাতালটির।

হাসপাতালের ৩টি জেনারেটার ১০ বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীরা গরমে ছটফট করে। ৫ বছরের বেশী সময় ধরে ডেন্টাল, ল্যাব টেকনোলজিষ্ট, রেডিওগ্রাফার পদগুলো শূন্য রয়েছে;  ফলে কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য যেতে হচ্ছে বাহিরে। গত ৩ বছরের বেশী সময় ধরে এক্সরে মেশিন ঘরে ভিতরে থেকে ও হাসপাতালের জন্য একটি নৌ এ্যাম্বোল্যান্স থাকলেও চালক না থাকায় কোন কাজে আসছে না। নৌ এম্বোল্যান্স নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের পুকুইে যেন দেখার কেই নেই।


অন্য দিকে ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীর প্রতিটি পদ শূন্য থাকার কারনে পরিস্কার,পরিচ্ছন্ন ও প্রশাসনিক কাজে র্দীঘ দিন ধরেই ব্যাগাত সৃষ্টি হচ্ছে। তারপরও অফিস কতৃপক্ষ যাকে যে ভাবে কাজে লাগালো যায় সেভাবেই হাসপাতালের কাজের স্বার্থে কাজ লাগাচ্ছেন।

ওয়ার্ডে ও জরুরী বিভাগে নাইট র্গাড রামচরন ও মালি শফর আলী জরুরী বিভাগে মেডিকেল এসিস্ট্যান্ড মহি উদ্দিন বিপ্লব,বেলায়েত হোসেন রুমি,ফয়েজ আহমেদ নূরীসহ যারা দায়িত্বে থাকেন সার্বক্ষনেই তাদেরকে সহযোগীতা এবং হাপাতালে আসা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়।

এদিকে ৪র্থশ্রেনী ও নার্স কোয়াটার গুলোর দরজা, জানালা, দেয়াল, পানি পাই ও ট্যাংকি নষ্ট হয়ে পরেছে র্দীঘদিন ধরেই কিন্তু এই দিকে কারো নজর নেই। বসবাসকারীরা বার বার বলার পরও কোন প্রতিকার হচ্ছে না। ফলে তারা কর্তৃপক্ষের বাহিরে কিছু বলতেও পারছে না। এছাড়া হাসপাতালের মূল ভবনের (পিছনের অংশ) কিছু অংশ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে র্দীঘ দিন ধরেই;  মেরামত হয়নি। ঐসব অফিস কক্ষগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে রয়েছে এখন।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য রয়েছে : আরএমও-১ জন পদ, এক জনেই শুণ্য, মেডিকেল অফিসার ২জন, নাসিং সুপারভাইজার ১জন, ল্যাব টেকনেশিয়ান ১জন, ডেন্টাল ১জন, ডেন্ডাল সার্জন ১জন, রেডিও গ্রাফার ১ জন, ফার্মাসিষ্ট ২জন, প্রধান সহকারী পদ শুন্য, অফিস সহকারী ১জন, স্টোরকিপার ১জন, নাইট গার্ড ১জন, ওর্য়াড বয় ২জন, আয়া ২জন, ঝাড়ুদার ৪ জন, এমএলএসএস ৪জন, বাবুর্চি ১জন, ইলেকটিশিয়ান ১জন শুন্য রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে শুন্য পদগুলো পূরণ করে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি করার দাবী জানান হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন জানান,হাসপাতালে ভাল কোন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নাই। মহিলাদের জন্য কোন গাইন ডাক্তার হাসপাতার নির্মানের পর থেকে পাইনি। ফলে মহিলরা চিকিৎসা নিতে এসে বিপাকে পড়েন। এছাড়ার দাঁেতর ডাক্তার,এক্সরেসহ বিভিন্ন পদে শূন্যতার কারনে বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয় আমাদের।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আগত রোগীদের আমরা সবোর্চ্ছ সেবা দিয়ে থাকি। শুন্য পদ গুলো পূরনের জন্য কার্যকর প্রদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। জনবল নিয়োগ হলে কোন সমস্যাই থাকবে না। শূন্য পদ গুলোর বিষয়ে উর্ধবতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তিনি আরো জানান,৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগ সরকারী ভাবে না দিয়ে আউট সোসিং(কন্ট্রাকটারের মাধ্যমে)মাধ্যমে নেওয়া হবে। এছাড়া অন্যান্য পদে নিয়োগে কার্যক্রম প্রক্রিয়াদিন রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে জঠিল কোন রোগী আসলে জরুরী প্রয়োজনে জেলা সদরে পাঠানোর জন্য একটি এম্বোল্যান্সের প্রয়োজন ।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তাহিরপুর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার উন্নতির জন্য বিভিন্ন রোগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকসহ প্রতিটি পদে নিয়োগ দিয়ে জনসাধারণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত