সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

সুনামগঞ্জের পর্যটন সম্ভাবনাময় তিনটি জমিদার বাড়ি

সুনামগঞ্জের পর্যটন সম্ভাবনাময় তিনটি ঐতিহ্য তথা জমিদার বাড়ি নিয়ে আজকের লেখা। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজ আর সুষ্ঠু তদারকির উদ্যোগ নিলে এই স্থাপনাগুলো সম্ভাবনাময় পর্যটনস্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
সুখাইড় জমিদার বাড়ি
৩০০বছরেরও বেশি পুরোনো মোগল আমলের এই স্মারক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, পাহাড়ি বৌলাই নদী, বিশাল বিশাল হাওর, পাখি, জঙ্গল সবদিক বিবেচনায় সুনামগঞ্জের সুখাইড় জমিদার বাড়ি ভাটি বাংলার রাজমহল হিসেবে কালের স্মৃতি নিয়ে আজো ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, এই জমিদার বাড়িতে ছিল আকর্ষণীয় বাংলো, জলসাগর, গুদামঘর, কাচারিঘর, রেস্টহাউস ও চারটি থাকার ঘর। সদ্য অতীতে তা বিলীন হলেও এখনও বেশ আকর্ষণীয় এ জমিদার বাড়িটি।
কথিত রয়েছে, সুখাইড় জমিদারির সীমানা গজারিয়া নদীর উত্তরপাড় থেকে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে জমিদারদের বিরুদ্ধে যে নানকার বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল তার সূত্রপাত সুখাইড় জমিদার বাড়ি থেকেই। যার ইতিহাস খুজলে দেখা যায়, আনুমানিক ১৬৯১ সালে মোঘল শাসনামলে মহামানিক্য দত্ত রায় চৌধুরী হুগলী থেকে আসাম যাওয়ার পথে কালিদহ সাগরের স্থলভূমি ভাটির প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ হয়ে সুখাইড়ে জায়গা কেনেন। ঐ সময় থেকেই সুখাইড়ে বাড়ি নির্মাণ পরিকল্পনা শুরু করেন মহামাণিক্য। পাশে পাহাড়ি নদী বৌলাই, হাওরের থৈ থৈ ঢেউ, বন ঝোপ আর সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশে সমৃদ্ধি থাকায় ১৬৯৫ সালে সুখাইড়ে ২৫ একর জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন জমিদার মোহনলাল। কয়েক পুরুষের চেষ্টায় শেষ হয়েছিল বাড়ির নির্মাণকাজ।
জমিদারি যুগে সুনামগঞ্জ ছিল ৩২ টি পরগনায় বিভক্ত। দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলীর কারণে সুখাইড় জমিদার বাড়ি হাওর রাজ্যের রাজমহল হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছিল। এ জমিদারির বিস্তৃতি ছিল দক্ষিণে ঘাগলাজুর নদীর উত্তরপাড়, উত্তরে বংশীকুন্ডা, পশ্চিমে ধর্মপাশা এবং পূর্বে জামালগঞ্জ। একসময় এ বাড়ির মালিকানায় ছিল ধানকুনিয়া বিল, চারদা বিল, কাইমের দাইড়, সোনামোড়ল, পাশোয়া, ছাতিধরা, রাকলা, বৌলাই, নোয়ানদী, চেপ্টা এক্স হেলইন্নাসহ ২০ টি জলমহল।
জমিদারদের আয়ের উৎস বলতে প্রজার ওপর ধার্যকৃত খাজনা আদায় ও হাওরের মতস্য খামার এবং বন জঙ্গল? প্রজাদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন-ক্ষমতার অপব্যবহার? সুন্দরী মেয়ে, ঘরের বধূদের ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়লে রেহাই পেতো না? ধীরে ধীরে অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে? আর আজো সেসব রসময় কাহিনি অত্যাচার-নির্যাতন-প্রভাবের গল্প গ্রামাঞ্চলে কল্পকাহিনীর মতো ছড়িয়ে আছে? জমিদারি প্রথার শেষ দিকে নানকার বিদ্রোহের পটভূমি তারই অংশ?
প্রজাদের ওপর জমিদারদের স্বর্ণময় সময়ে যে অত্যাচার-নিপীড়ন-নির্মমতার ভার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এখন যেন তারই ফল ভোগ করে চলেছেন জমিদারদের বর্তমান বংশধরর। জমিদার বাড়ির জুলুসহীন রূপের মতোই তাদেরও জীবনযাপন আভরণহীন? বড়োবাড়িতে বাস করছেন মলয় চৌধুরী, মধ্যম বাড়িতে শিপু চৌধুরী ও ছোট বাড়িতে বিমল চৌধুরী? অযত্ন-অবেহেলা ও সরকারের উদাসীনতায় প্রত্নতত্ত্বের সম্ভাবনাময় স্থান এবং মোগল আমলের নিদর্শনসমূহ হারিয়ে যেতে বসেছে। জলসাঘর, বৈঠকখানা, বাংলা, বিশ্রামাগার, দুর্গামন্দির ইতোমধ্যে ধসে গেছে? এককালে যে জমিদার বাড়িকে আবর্তিত করে পরিচালিত হতো প্রজাব্যবস্থা তার চার ভাগের মধ্যে এখনো বড় বাড়ি, মধ্যম বাড়ি ও ছোট বাড়ি টিকে আছে? জমিদারি পতনের পর বাড়িগুলোর অনেক বদ্ধ ঘর ও সিন্দুক রয়েছে যা আজো খোলা যায়নি? বাড়ির ভেতর প্রবেশ করলে এখনো গা ছমছম করে? অন্ধকার থাকে এককালের রঙিন আলো ও শোভাদানকারী কক্ষসমূহ?
বর্তমান বংশধররা জানান, প্রাচীন আমলের মাটির নিচে যে ঘরগুলো ব্যবহার হতো এখন কেউ সাহস করে বন্ধঘর খুলতে সাহস পান না? তেমনি অযত্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাড়ির দেয়ালের নান্দনিক কারুকার্যসমূহ? কথিত আছে, জমিদারি পরিদর্শন করতে এসেছিলেন ইংরেজ প্রশাসক মি. বেলেন্টিয়ার? তিনি বেরিয়েছিলেন অদূরবর্তী টাঙ্গুয়ার হাওরে শিকার করতে?

তখনকার ঘটনা শিকারের ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল প্রথম সাহেবরা গুলি চালাবার পর জমিদারদের গুলি করা, সে সময়ই বেলেন্টিয়ার সাহেবের হাতিকে ৩টি বাঘ আক্রমণ করে? মুহূর্তের আকস্মিকতায় সাহেব জ্ঞান হারান? সে অবস্থার সুখাইড়ের জমিদার মথুর চৌধুরী দিগ্বিদিক কিছু না ভেবেই তিনটি বাঘকে গুলি করে হত্যা করেন? পরে সাহেবের জ্ঞান ফিরলে জমিদারকে নিজের রাইফেলটি উপহার দিয়ে দেন? এছাড়া জমিদারী আমলের এমন খবরও পাওয়া যায় যে তখন কেউ ছাতা টাঙিয়ে, জুতা পায়ে দিয়ে জমিদার বাড়ীর সামনে দিয়ে গেলে বেয়াদবী মনে করা হতো, ফলাফল শাস্তি।

পানাইল জমিদার বাড়ি

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের পানাইল জমিদার বাড়ি। প্রায় ৪শ’ বছরের পুরনো বাড়ির প্রবেশদ্বারটি আজো স্মৃতি বহন করছে অতীত জৌলুসের। ধারণা করা হয়, ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে জমিদার বাড়ির দু’তলা বিশিষ্ট বসতঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু এখনও রয়ে গেছে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক এ স্মৃতিচিহ্ন। এ বাড়িতে বসবাস করেছেন জমিদার পরিবারের পূর্বপুরুষ প্রেম নারায়ণ চৌধুরী। যিনি পরবর্তীতে মুসলমান হয়ে মোহাম্মদ ইসলাম নাম ধারণ করেছিলেন। তারই উত্তরসূরি দেওয়ান ছনুবুর রাজা চৌধুরী। পরবর্তী বংশধর এ উপ-মহাদেশের ইসলামী রেনেসাঁ ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের বিপ্লবী সৈনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আহবাব চৌধুরী ও দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরী।
দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়ার পানাইল জমিদার বাড়িটিকে দেওয়ান বাড়ি বা রাজবাড়ি নামেও ডাকা হয়। বিশাল বাড়ির আঙিনা। আঙিনার একেকটি বাড়ির ভিন্ন ভিন্ন নাম। কোথাও লেখা রয়েছে রাজবাড়ি, দেওয়ান বাড়ি অথবা জমিদার বাড়ি। মূলত সবই এক সুতোয় গাঁথা।
জনশ্রুতি রয়েছে, জমিদারি আমলে জমিদারদের বাড়ির পাশ দিয়ে জুতো, সেন্ডেল, খরম পায়ে দিয়ে সাধারণ মানুষজন যেতে পারতেন না। কালের বিবর্তনে জমিদার বাড়ির আগেকার অনেক স্মৃতিচিহ্ন অবশিষ্ট নেই। কিন্তু এখনও বিদ্যমান রয়েছে জমিদার আমলের খননকৃত বেশ কয়েকটি পুকুর।
জানা গেছে, যা এক সময় বিশাল আকৃতির একটি পুকুর ছিল জমিদার বাড়িতে। পরবর্তীতে এই পুকুরকে খণ্ড খণ্ড করা হয়। পুকুরের অদূরেই বহু পুরাতন স্থাপনা ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান বাড়ি জামে মসজিদ। প্রায় ৩শ’ বছর আগে নির্মিত এটি। যা পরে সংস্কার করা হয়েছে। মসজিদের নিকটে দেওয়ান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান অবস্থিত। সেখানে চিরশায়িত আছেন এ অঞ্চলে দেওয়ান বাড়ির পূর্বপুরুষ মোহাম্মদ ইসলাম। যিনি দেওয়ান পরিবারের প্রথম পুরুষও বটে। তার পাশের কবরে রয়েছে তৎকালীন সময়ে সুদূর ইরাকের বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচারে আসা জনৈক আবু তাহের (রহ.)-এর স্ত্রীর কবর।
জানা যায়, ইসলাম প্রচারক আবু তাহের (রহ.) সুনামগঞ্জে ইসলাম প্রচারে এসেছিলেন। ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি দোয়ারাবাজারে আসার পথে পানাইল লঞ্চঘাটে পৌঁছলে তার গর্ভবতী স্ত্রী আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। পরে ইসলাম প্রচারক ওই সাধকের অনুরোধে জমিদার বাড়ির পারিবারিক কবরেই সমাহিত করা হয় তার স্ত্রীকে। এর পাশে কবর রয়েছে দেওয়ান ছনুবুর রাজা চৌধুরীর। এছাড়া দেওয়ান মোহাম্মদ আহবাব চৌধুরীসহ পরবর্তী প্রয়াত বংশধরদের অনেক কবর রয়েছে। মসজিদের দক্ষিণ দিকের পুকুরের নিকটে শায়িত আছেন জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরী।
দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়ায় অবস্থিত দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরী ও তার পূর্বপুরুষদের স্মৃতি বিজড়িত জমিদার বাড়িটি এখনও কালের সাক্ষী হয়ে গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে জানান দিচ্ছে। সুষ্ঠু তদারকি ও সংস্কারের অভাবে দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরীর শেষ স্মৃতিটুকুও এখন বিলুপ্তির পথে। একসময় এখানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য জ্ঞান অনুসন্ধিৎসুকদের সমাগম ঘটতো। দেওয়ান মঞ্জিল, প্রায় ৪শ’ বছরের পুরনো প্রবেশদ্বার, পুরনো মসজিদ, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরীর কবরস্থান ও তার পারিবারিক লাইব্রেরি পর্যটকদের নজর কাড়তো।

সরেজমিনে জানা যায়, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ চৌধুরীর পারিবারিক অনেক ভূ-সম্পত্তিই বেদখল রয়েছে। তার উত্তরসূরিরা দেশের বাইরে থাকায় ঐতিহাসিক এই বাড়িটি জৌলুস হারাতে বসেছে। বেশ কয়েকটি মনোরম সুপ্রাচীন ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার পারিবারিক লাইব্রেরি এখন বিলুপ্তপ্রায়। উল্লেখ্য, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক হিসাবে সম্মানিত হয়েছিলেন এবং একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন আসাম উচ্চ পরিষদে ছাতক-দোয়ারার এমএল.সি (এম.পি)-১৯৪৬ইং এবং ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন তমুদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। সরকারিভাবে সংস্কার কাজ ও সুষ্ঠু তদারকির উদ্যোগ নিলে তার পারিবারিক স্থাপনাগুলো সম্ভাবনাময় পর্যটনস্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

গৌরারং জমিদার বাড়ি

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের গৌরারং গ্রামে অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি। সুনামগঞ্জ শহর হতে আব্দুজ জহুর সেতু পার হয়ে হাতের বাম দিকে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে ব্রীজ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ২শ’ বছরের পুরনো এই জমিদার বাড়ি। পাশেই সুরমার শান্ত স্রোত, নব নির্মিত রাস্তার দু পাশে সারি সারি বৃক্ষরাজি, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ। স্নিগ্ধ বাতাস, ধান গাছপালা গাঁয়ের আকা মেঠোপথ বেশ আকর্ষণ করে পর্যটকদের। বর্তমানে সঠিক ব্যবস্থাপনা করলে পর্যটকদের জন্য এই এলাকা হতে পারে একটি দর্শনীয় স্থান।
বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ জমিদারি প্রথা। ১৯৫০ সালে জমিদারী প্রথা বন্ধ হওয়ার পর এখন তা কেবলই অতীত। আমাদের চারপাশে ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন মোঘল আমলে স্থাপিত জমিদারদের বিলাসবহুল পরিত্যক্ত অট্টালিকা। যা আজও ইতিহাসের সাক্ষি বহন করে।
বর্তমানে জমিদার বাড়ির একাংশের ক্রয় সূত্রে মালিক নেপাল চক্রবর্তীর ছেলে বিজিত চক্রবর্তী। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৮০০ সালের শুরুর দিকে সুনামগঞ্জ তথা এই রাজ্যের জমিদারী প্রত্যয়ন করেন জমিদার রাজেন্দ্র কুমার চৌধুরী ও রাকেশ রঞ্জন চৌধুরী। এরপর সময়ের পরিবর্তনের সাথে তাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে রাগেন্দ্র কুমার চৌধুরীর হাত ধরে জমিদারী বিস্তৃতি লাভ করে।
প্রায় ২শ’ বছরের পুরনো হলেও অত্যাধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে রয়েছে ৬ টি আলাদা ভবন , রংমহলের দেওয়ালে নর-নারী লতাপাতার ছবি, অন্দর মহল, সিংহাসন, জলসা ঘর, আজও পরিদর্শন করতে আসা মানুষকে আকৃষ্ট করে। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলে এখন গা শিউরে উঠে, অন্ধকার থাকে এককালে রঙিন আলো শুভাদানকারী রাজ কক্ষসমূহ। দালানের গায়ে শ্যাওলা জমে দেয়ালগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে, পড়ে আছে গোবর ময়লা আবর্জনা। রাজবাড়ীর মূল ভবনের ভিতরটা ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। বিকালে কিংবা সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই জমিদার বাড়ির পরিত্যাক্ত ভবন ও আশপাশে বসে জুয়ার আসর।
রংমহল ভবনের সম্মুখভাগে রয়েছে বিশাল আকৃতির একটি পুকুর, মূলভবনের ডান পাশে রয়েছে আরো একটি দিঘী যেখানে জমিদার বাড়ির নারীরা গোসল করতেন যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হয় জল বারান্দা। পুকুর পাড়ের জমিদারী ঘাট আজও অক্ষুন্ন রয়েই গেছে। পড়ন্ত বিকালে পুকুর পাড়ের ঘাটে বসে ঘুরতে যাওয়া মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটা কাছ থেকে উপভোগ করতে পারেন। বাড়ি ঘেরা অসংখ্য ছোট বড় গাছ গাছালি পুরাতন এই বাড়িটিকে যেন আগলে রেখেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জমিদারদের উওরাধিকারদের মধ্যে কেউ আর এখানে থাকেন না। বাড়ির একটি অংশ তারা ক্রয় করেছেন আর আরেকটি অংশ একই গ্রামের অন্য একজন ক্রয় করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, সুনামগঞ্জ গৌরারং জমিদার বাড়ি ও এলাকা নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারলে এটিও হতে পারে একটি পর্যটন কেন্দ্র। জেলা প্রশাসন চাইলে উভয় পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে এই বাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এটিকে সংস্কার করে দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

error: Content is protected !!